News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট ও আশপাশ

৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট ও আশপাশ

ফাইল ছবি

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ সিলেট ও এর আশপাশের এলাকায় আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের ছাতককে কেন্দ্রস্থল করে হওয়া এই ভূকম্পনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত কেঁপে ওঠে। 

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও হঠাৎ এই কম্পনে কর্মব্যস্ত মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এবং ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অ্যাপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল, যা ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কেন্দ্রস্থল ছাতক এলাকায় হওয়ায় সিলেট নগরীসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

এবারের ভূমিকম্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বিরল দিক ছিল এর গভীরতা। সাধারণত বাংলাদেশে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পগুলো ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি হলেও এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে এত গভীরে উৎপত্তি হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা বিধ্বংসী ছিল না, যার ফলে বড় ধরনের কোনো স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কম ছিল। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎপত্তিস্থল হওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ তুলনামূলক বেশি কম্পন অনুভব করেছেন।

ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরপরই রাজধানীর বহুতল ভবনগুলো থেকে অনেককে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে। 

তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বড় কোনো পরবর্তী কম্পন বা ‘আফটারশকের’ আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন।

উল্লেখ্য যে, সিলেট ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ জোনে অবস্থান করছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৩২ মিনিটেও ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল সিলেট, যার উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পুনরায় এই মাঝারি মাত্রার কম্পনটি ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়