মন্দিরের সোনার ভাণ্ডার ব্যাংক ব্যবস্থায় যুক্ত করতে চান মোদি
ভারতের মন্দিরগুলির ভাণ্ডারে সংরক্ষিত সোনা ব্যাংক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। মন্দির কর্তৃপক্ষ বা ট্রাস্টগুলিকে সুদের ভিত্তিতে ব্যাংকে সোনা জমা রাখতে উৎসাহ দিতে আগামী মে মাসে আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি সরকার।
বহু বছর ধরে ভক্তদের দেওয়া গয়না, সোনার বাট এবং কয়েন জমা হয়ে ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার টন সোনা সংরক্ষিত রয়েছে। মন্দিরগুলির পুরোনো এবং আধুনিক নানা ধরনের ভল্টে এই সোনা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। রয়টার্স।
স্বর্ণ আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষায় এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ভারত। গেল অর্থ বছরের মোট বাণিজ্য ঘাটতির ২৮ শতাংশই বিদেশ থেকে ব্যাপক হারে সোনা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ফলে বলে আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে সোনা আমদানির (যা বর্তমানে বছরে গড়ে ৮০০-১০০০ টন, এবং ১ টন= ১০০০ কেজি) হার এক-চতুর্থাংশ কমানো যেতে পারে৷
সরকার জানিয়েছে, দেশের ভেতরকার চাহিদা মেটাতে ব্যাংকে মন্দিরগুলির জমা করা সোনা গলিয়ে স্বর্ণব্যবসায়ীদের লোন হিসেবে দেওয়া হবে।
তবে, মন্দির কর্তৃপক্ষগু সুদের হার বেশি না হলে সরকারের এ পরিকল্পনায় রাজি নাও হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৯৯৯ সালেও ওই সোনা ব্যাংকে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সুদের হার ০.৭৫-১ শতাংশ হওয়ায় এতদিনে মাত্র ১৫ টন সোনা জমা পড়েছে৷
মহারাষ্ট্রের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নরেন্দ্র মুরারি রানে এ প্রসঙ্গে বলেন, "রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলিতে সোনা রাখতে আমরা খুশিই হব, যদি সংশ্লিষ্ট পলিসি লাভদায়ক ও সুরক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে সুদের হার অন্তত ৫ শতাংশ দাবি করেন তিনি। দু'শো বছরের পুরোনো এই মন্দিরে প্রায় ১৫৮ কেজি সোনা জমা আছে।
এদিকে, 'ভক্ত'রা সরকারের এই উদ্যোগকে কী চোখে দেখবে, সেটাও প্রশ্ন। মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ী বলেন, "আমি ও আমার বাবা বিগত কয়েক বছরে সিদ্ধিবিনায়ক-সহ বেশ কিছু মন্দিরে প্রায় ২০০ কেজি সোনা দান করেছি। দেবতাকে উৎসর্গ করা ওই সোনা সুদে খাটানো পাপ!'
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








