বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে ডিএসইর ওয়েবসাইট সংস্কার
ঢাকা: বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার সংক্রান্ত করপোরেট তথ্যসেবা দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইট নতুনরূপে সংস্কার করা হয়েছে। নতুন এ সাইটে আধুনিক লেখচিত্রের (গ্রাফ) ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে বলে জানিয়েছেনে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা।
মতিঝিলে ডিএসইর প্রধান কার্যলয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। এর আগে নতুন ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, “পুরোনো ওয়েবসাইটের চেয়ে নতুন সাইট অনেক বেশি তথ্যবহুল। এতে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন।”
তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারী লেখচিত্রের সহায়তা নিয়ে সহজেই কোনো কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান মূল্য, সময়-তারিখ ও বছর জানতে পারবেন। এর আগে এ ধরনের তথ্য পেতে বিনিয়োগকারীদের কষ্ট হতো, এখন তা সহজেই হবে।”
তিনি আরো বলেন, “ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকাণ্ড কাগজপত্রবিহীন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে এটি করা সম্ভব হবে। এরপর আমরা আর কাগজের সহায়তায় কাজ করব না। এ জন্য একটি সফটওয়্যার কিনতে হবে।”
তিনি বলেন, “ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব ধরনের কাজ বণ্টন করা হবে। যদিও এ কাজটি জটিল, এরপরও আমরা তা বাস্তবায়ন করব।”
এসময় তিনি আরো বলেন, “আগামী জুলাই মাসে ডিএসইর ওয়েবসাইটের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সম্পন্ন হবে। তখন সাইটটি আরো তথ্যবহুল হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা মোবাইলের মাধ্যমে সহজেই যেন ডিএসইর ওয়েবসাইট দেখতে পারেন এজন্য নতুন মোবাইল অ্যাপস চালু করা হবে। যা সরকারের উদ্যোগে চালু করা হবে।”
ড. স্বপন বলেন, “এজন্য সরকারিভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে মনোনয়ন করা হয়েছে। এছাড়া শিগগিরই অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস চালু করা হবে। এজন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, “গত বছরের ১১ ডিসেম্বর দেশের প্রধান ও প্রাচীনতম পুঁজিবাজার ডিএসইতে বিশ্বের সর্বাধুনিক পেট্রডিং প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে। বিশ্বের অত্যাধুনিক স্টক এক্সচেঞ্জে পরিণত করা জন্য বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় ডিএসইর এ পদক্ষেপ। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএসই ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিশেষ করে ওয়েবসাইটের গ্রাফ আগে থেকে অনেক বেশি ডায়নামিক হয়েছে। এখান থেকে একজন বিনিয়োগকারী গ্রাফের যে কোনো একটি বিন্দুর সঠিক ভ্যালু এবং সময় জানতে পারবে।”
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৯৮ সালের ১০ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অটোমেশন চালু হয়ার পর ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে ডিএসইতে প্রথম ওয়েবসাইট চালু করা হয়। ২০০০ সালে থেকে ৩০ মিনিট পরপর ডাটা আপডেট প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ১৫ মিনিট পরপর ডাটা আপডেট প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০০৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে তিনি মিনিট পরপর ডাটা আপডেট প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০০৭ সালে জিএইচপি থেকে পিএইচপি প্রোগ্রামে কনভার্ট করা হয়।
সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ইংরেজি ওয়েব সাইটের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বহুল প্রতিক্ষিত বাংলা ওয়েব সাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বাংলা ভাষায় ওয়েব সাইট চালুর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্র আরো একধাপ এগিয়ে যায়।
২০১৪ সালের ২২ মে ডিএসইর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বাংলা সংস্করণে ডিএসইর প্রশিক্ষণ একাডেমি সম্পর্কে তথ্য, কর্মসূচিসমূহ, আসন্ন কর্মসূচিসমূহ, অভ্যান্তরীণ পাঠ্যসূচি, আন্তর্জাতিক পাঠ্যসূচি, প্রশিক্ষণ পঞ্জিকা, প্রশিক্ষকবৃন্দ, প্রশিক্ষণ একাডেমি আর্কাইভ ও ফলাবর্ত (ফিডব্যাক) ওটিসি বাজার সম্পর্কে তথ্য, বিভিন্ন নির্দেশনা, কোম্পানিসমূহের বিবরণী, তথ্য সম্ভার ইত্যাদি বাংলা ভাষায় চালু করে এ অনুষ্ঠানে তা উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় ডিএসইর পরিচালক খাঁজা গোলাম রসূল ও মো. শরিফ আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/জেএস/এটিএস
নিউজবাংলাদেশ.কম








