জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানে বিসিবি সভাপতি
ফাইল ছবি
বিশ্ব ক্রিকেটে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও আসন্ন দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গভীর সংকট নিরসনে এক জরুরি বৈঠকে বসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এই উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত মূলত বাংলাদেশি তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। বিসিবির পক্ষ থেকে একে নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে গণ্য করে ভারতের মাটিতে আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তাতে সায় দেয়নি।
সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ ভারতেই হবে এবং সেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ আশ্বস্ত হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আসরে দল না পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে আইসিসি বাংলাদেশকে আসর থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট, শ্রীলঙ্কার পুনর্বিবেচনার আহ্বান
বাংলাদেশের এই অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
পিসিবি জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না। এমনকি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দলকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে ‘ওয়াক ওভার’ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইসিসি ও বৈশ্বিক সম্প্রচার সত্ত্বাধিকারীদের বিপুল বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি এই অনড় অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে আইসিসির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে অন্তত ৬ হাজার কোটি রুপি।
আজকের এই জরুরি বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং আইসিসি প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আইসিসি এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিলেও উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত ও বর্তমান সংকট বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতিতে এক সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈঠকের ফলাফল যাই হোক না কেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরের জৌলুস রক্ষা করা এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে সংস্থাটিকে বাঁচানো। বিসিবি সভাপতি আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বিকেলেই ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে, যার পর বিসিবির পরবর্তী অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








