News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৩১, ১০ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৪:৪৪, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.)’র জন্মদিন

হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.)’র জন্মদিন


ঢাকা: ১০ এপ্রিল ১৪৪৪ চন্দ্র বছর আগে এই দিনে (বিশে জমাদিউস সানি) জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নারী ও বেহেশতি নারীকুলের নেত্রী তথা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.)।
 
গোটা মানব জাতির গর্ব ও বিশেষ করে নারী জাতির উচ্চতর সম্মান ও চিরন্তন মুক্তির প্রতীক ফাতিমা জাহরা (রা.)। আজ নারী ও মা দিবস হিসেবে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ফাতিমার জন্মদিন।
 
এ উপলক্ষ্যে ইরানে পালিত হচ্ছে নারী সপ্তাহ। আলোচনা-সভা, কবিতা পাঠ, মিষ্টি বিতরণ এবং বিয়ের অনুষ্ঠান এই দিনের বিশেষ কিছু কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে সে দেশে। উল্লেখ্য, এই দিনটি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনীরও জন্ম বার্ষিকী।
 
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পুত্র সন্তানগণ শৈশবেই ইন্তিকাল করায় মক্কার কাফিররা যখন মহানবী (সা.)-কে নির্বংশ বলে বিদ্রূপ করত তখন মহান আল্লাহ তাঁকে দান করেন হযরত ফাতিমা জাহরা (রা.)কে। পবিত্র কুরআনে তাকে 'কাওসার' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যার অর্থ মহত্ত্ব আর নেয়ামতের চির-প্রবহমান ঝর্ণা।  

ফাতিমা জাহরা (রা.)'র 'ফাতিমা' শব্দের অর্থ পাপ বা মন্দের দহনকারী। আর 'জাহরা' শব্দের অর্থ আলোকোজ্জ্বল। বলা হয় তিনি বিচার দিবসে পাপী উম্মতের মধ্য হতে যারা বিশ্বনবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র বংশ বা আহলে বাইতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাঁদের মুক্তির জন্য শাফায়াৎ বা সুপারিশ করবেন।
 
খোদাভীরুতা, আত্মত্যাগ, বাগ্মিতা ও সাহিত্য প্রতিভাসহ সমস্ত মানবীয় মহৎ গুণে পূর্ণতার অধিকারী এই মহীয়সী নারীর আলোকোজ্জ্বল অস্তিত্ব কেবল নারী জাতি নয় গোটা মানব জাতির জন্যই গৌরবের বিষয়।
 
ফাতিমা জাহরা (রা.)-কে দেখলে বিশ্বনবী (সা.) বসা অবস্থায় থাকলে উঠে দাড়িয়ে তাকে সালাম দিতেন। নবী তাঁর বংশধারা রক্ষাকারী একমাত্র এই কন্যার মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেছেন, “যা ফাতিমাকে কষ্ট দেয়, তা আমাকে কষ্ট দেয় এবং যা আমাকে কষ্ট দেয় তা আল্লাহকেও কষ্ট দেয়।”

বিশ্বনবী (সা.)'র বিপদ ও দুঃখ বেদনায় মাতৃসুলভ সেবার জন্য ফাতিমা (রা.)-কে বলা হত উম্মে আবিহা বা নিজ পিতার মাতা।
 
ফাতিমা (রা.)'র পর বিশ্বের তিনজন শ্রেষ্ঠ নারী হলেন তারই মা হযরত খাদিজা (রা.আ.), হযরত মারিয়াম (রা.) ও ফেরাউনের স্ত্রী তথা মুসা নবী (আ.)'র পালক-মাতা বিবি আসিয়া (রা.)।
 
হযরত খাদিজা (রা.) নিজের গর্ভে থাকাকালে কন্যা ফাতিমা (রা.)'র সঙ্গে কথা বলেছেন বলে বর্ণনা রয়েছে।

ফাতিমা জাহরা (রা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেন বিশ্বনবী (সা.)'র চির বিদায়ের মাত্র ৭৫ দিন পর। রাসুল (সা.)'র বিয়োগ-ব্যথায় অত্যন্ত ব্যথিত নবী-নন্দিনীকে সান্ত্বনা দিতে আসতেন ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ.)। মাসহাফই ফাতিমা' নামে খ্যাত গ্রন্থটির সমস্ত তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে জিবরাইল ফেরেশতার সঙ্গে ফাতিমা (রা.)'র কথোপকথনের মাধ্যমে যা লিখে গেছেন হযরত আলী (আ.)। মহানবী (সা.) তার বাবা ছিলেন বলে তার বিয়োগ-ব্যথায় তিনি খুব বেশি কাতর হয়ে পড়েছিলেন তা নয়, বরং পরিপূর্ণ মহামানবী হিসেবে বিশ্বনবী (সা.)'র পরিপূর্ণ মানবতা ও শ্রেষ্ঠত্বকে উপলব্ধি করতেন বলেই তিনি বাবার বিদায়ে এতটা দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
 
ফাতিমা সিদ্দিকা ঐশী পন্থায় অনেক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি নিজের মৃত্যু কবে হবে এবং তার দুই প্রিয় সন্তান হাসান ও হুসাইন (আ.) কিভাবে মারা যাবেন সে তথ্যসহ ভবিষ্যৎ ইতিহাসের অনেক খবর রাখতেন। হুসাইন (আ.)'র হত্যাকারীদের অভিশাপ দিয়ে গেছেন তিনি। মদিনার নারী সমাজ ধর্মীয় বিষয়সহ নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করত ফাতিমা (রা.)'র কাছ থেকে।
 

জগত-বিখ্যাত ইমাম হযরত হাসান ও হুসাইন (রা.) এবং মানবজাতির শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদীসহ (আ.) আহলে বাইতের পবিত্র ধারার ১১ জন ইমাম ছিলেন তারই বংশধর। এই নয় জন ইমামের দৃষ্টিতে ফাতিমা জাহরা (রা.) ছিলেন তাদেরও আদর্শ। এই মহান ইমামগণই প্রকৃত ইসলাম বা মুহাম্মাদী ইসলামকে সংরক্ষণ করেছেন মানবজাতির জন্য।
 
ফাদাক ও মানজিল শীর্ষক ফাতিমার ভাষণ এই মহামানবীর অতুল জ্ঞান, খোদাভীরুতা এবং দূরদর্শিতাকেই তুলে ধরে। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, “মহান আল্লাহ- আলী, তার স্ত্রী ও তাদের সন্তানদেরকে মানুষের জন্য হুজ্জাত বা দলিল করেছেন এবং তারা হল জ্ঞানের দরজা।”
 

নবীজী (সা.) মৃত্যুকালে বলেছিলেন: "কন্যা আমার! আমার পরে আমার খান্দান থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার কাছে আসবে (তথা দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে)"- এ কথা শুনে হযরত ফাতিমা আনন্দিত হয়েছিলেন।
 
হযরত ফাতিমা জাহরার নামেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ইসলামী বিদ্যাপীঠ মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

হযরত ফাতিমা (রা.)-'র নুরানি ও আধ্যাত্মিক উপস্থিতি দেখেছিলেন এখন থেকে প্রায় ৯৮ বছর আগে পর্তুগালের ফাতিমা শহরের তিন শিশু। বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায়।
 
নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে
 

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়