News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৫২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনে একাই লড়বে এনসিপি

স্থানীয় নির্বাচনে একাই লড়বে এনসিপি

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন দেখা দিলে জোটগত সিদ্ধান্তও বিবেচনায় আনা হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। 

একইদিন রাতে দলের কার্যালয়েও পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও জোটগত সিদ্ধান্ত শেষ সময়ে হওয়ায় প্রত্যাশিত প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগে থেকেই মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সেহরি আয়োজনে যোগ দিয়ে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম জানান, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, পাশাপাশি উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদের পর সাংগঠনিক অঞ্চলভিত্তিক সফরের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই শুরু হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রার্থী নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি এককভাবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করব। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আমরা এককভাবেই এই লড়াইয়ে যাব। তবে শেষ সময়ে যদি দেশের ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে ১১–দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রয়োজন মনে হয়, তখন সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবদুল হান্নান মাসউদ জানান, এনসিপি প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আগ্রহী ব্যক্তিদেরও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আইন অনুযায়ী এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়ন থাকবে না; প্রার্থীরা ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। সে ক্ষেত্রে এনসিপি তাদের নির্ধারিত প্রার্থীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করবে। এ বিষয়গুলো নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নির্ধারণ করবে।

আরও পড়ুন: মেয়র পদে লড়ার ঘোষণা দিলেন আব্দুস সালাম

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় ছাত্রশক্তির সেহরি আয়োজনে যোগ দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় নির্বাচন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশে সংগঠকদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। দলীয় কাঠামোকে আরও সক্রিয় করে স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন এনসিপি নেতারা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ঢাকা দক্ষিণে মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুরে মো. শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক করা হয়। তাদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম খান ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। আবদুল কাইয়ুম, সাখাওয়াত হোসেন ও শওকত হোসেন দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকার কথা, সেখানে দলীয়ভাবে বঞ্চিত বা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের ‘পুরস্কারমূলক পদায়ন’ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে প্রশাসকদের নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারের যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে সময়সীমা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে তা অনুপস্থিত।

তিনি আরও বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রতিনিধিশূন্য থাকায় নাগরিক সেবায় ভোগান্তি বেড়েছে। নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। 

তার মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া অগণতান্ত্রিক এবং এতে নির্বাচনের সমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসক পদে থেকে কেউ নির্বাচন করলে বা দলীয় প্রার্থীকে সহায়তা করলে অন্যদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে, যা নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তৈরি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের নিন্দা জানান। 

তারা বলেন, যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত; তা খর্ব হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এনসিপি নেতাদের দাবি, গত এক বছরে দলটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পর্যাপ্ত সময় পেলে সংসদে বর্তমান ছয়টি আসনের চেয়ে আরও বেশি আসন অর্জন করা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন সারজিস আলম।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়