News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

‘কে লাগবে ওর সঙ্গে? আমার ঝগড়া করার রেকর্ড নেই’

‘কে লাগবে ওর সঙ্গে? আমার ঝগড়া করার রেকর্ড নেই’

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে নিজের বা দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ, গুলবাগ ও রাজারবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একটি পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদল পরিচয়ে কয়েকজন এই হামলা চালিয়েছে। এছাড়া রমনা এলাকায় পথসভার সময়ও তার ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি দলটির।

এ বিষয়ে মির্জা আব্বাস জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং এ ধরনের অভিযোগ তুলতে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ভাবে সুযোগ খুঁজছে প্রতিপক্ষ।

তিনি বলেন, আমি কী বলব? এ ধরনের সুযোগ তো খুঁজছে। বহুদিন ধরে লাগানোর চেষ্টা করছে। কে লাগবে ওর সঙ্গে? খামাখা কী দরকার? আমার কি ঝগড়া করার দরকার আছে? আমার কি ঝগড়া করার রেকর্ড আছে? 

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নেতা কখনও কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বা ঝগড়ার রেকর্ড নেই; তাই এই অভিযোগ তুলার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

এ ঘটনার আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের লোকজন। একই দিন দুপুরে শান্তিনগর এলাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একটি পিঠা উৎসবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে এনসিপি দাবি করে। এ ছাড়া রমনা এলাকায় নির্বাচনী পথসভায়ও নাসীরুদ্দীনের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ‘বিএনপি জানে কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টানতে হয়’ ময়মনসিংহে তারেক রহমান

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে কিছু কিছু জায়গায় ভোটকেন্দ্রের সমস্যা আছে। 

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, রেলওয়ে স্কুলে নির্মাণাধীন ভবনে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তিনি বলেন, সাধারণভাবে পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালোই আছে; যদি কেউ ভণ্ডুল করতে না চায়, পরিবেশ ভালো থাকবে।

একই সময়ে মির্জা আব্বাস মালিবাগ গুলবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রতিপক্ষের দিকে কড়া আক্রমণ চালিয়ে বলেন, আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটাও আমার দোষ। এটা নাকি আমি হুমকি দিয়েছি। কোথায় কি হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের। 

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের কথায় ভীত নন এবং তাদের ফাঁদে পা দেবেন না।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, তোমরা পায়ে-পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো। এলাকার জন্য কী করেছো আর কী করবে বলো। 

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ নির্বাচনী প্রচারণায় কুৎসা রটায় ব্যস্ত এবং তাদের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নয়। এ ছাড়া তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে”- এ ধরনের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি তাদেরই হচ্ছে এবং তারা নির্বাচনকে চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে পরিচালনা করতে চাচ্ছে। 
তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? এবং যে লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছে, ১২ তারিখে জনগণই তাদের লাল কার্ড দেখাবে।

বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন; আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এলাকাবাসী তাকে সমর্থন করেছে। পুলিশী হামলা হলে মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছেন। 

তিনি দাবি করেন, অনেকবার এমপি হওয়ার সময়ও কেউ তার কাছে খালি হাতে ফিরে যায়নি; তবে তিনি কখনো মিথ্যা আশ্বাস দেননি।

নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্য ও এনসিপি নেতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-৮ আসনে উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়