News Bangladesh

রাজনীতি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫৫, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাধা কাটল মাহমুদুর রহমান মান্নার

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বাধা কাটল মাহমুদুর রহমান মান্নার

মাহমুদুর রহমান মান্না। ফাইল ছবি

অবশেষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি বাধা অতিক্রম করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত জটিলতায় তার প্রার্থিতা নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা ঋণ খেলাপিদের তালিকা (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো-সিআইবি) আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। ফলে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে মান্নার আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না।

আদালতে মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। অপরদিকে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম লিটন।

এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না এ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। হাইকোর্টে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান জানান, ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করে সিআইবি তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছিল। যদিও মান্না নির্ধারিত দুই শতাংশের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন, তবে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আদালতের মতে, ঋণের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সরবরাহ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ ডিসেম্বর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: মনোনয়ন জমা দিয়ে এলাকাবাসীকে আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল

ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হলেও নিয়মিত মুনাফা ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধ না করায় বকেয়া বর্তমান অঙ্কে পৌঁছেছে। আফাকু কোল্ড স্টোরেজের মালিকানায় মাহমুদুর রহমান মান্নার ৫০ শতাংশ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর ২৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রী ও পরিচালক ইসমত আরা লাইজুর ২৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে।

আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক আদেশের ফলে অন্তত আট সপ্তাহের জন্য মান্নার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়