দুর্নীতির টুটি চেপে ধরার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের জন্মভূমি বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে বগুড়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বাকি ৬৩টি জেলাকে সাজানো হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতি বৈষম্য নয়, বরং সুশাসন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করাই হবে তাদের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি নিজের জন্য এবং জেলার সব আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।
রাত পৌনে ১২টার দিকে জনসভার মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। এর আগে তিনি নওগাঁয় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। রাত ১২টা ২৩ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আতাউল্লাহ নিজামি।
বগুড়াকে ‘নিজের ঘর’ আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের মাটিতে ফিরে এসে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঘরের মানুষের কাছে এসে কী বলবেন, নিজেও তাল হারিয়ে ফেলেছেন। এত রাতে সভা করা, রাজনীতি করা এবং দীর্ঘদিন সংগ্রামে থাকার পেছনে স্ত্রী জোবাইদা রহমানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বগুড়াবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তার দেওয়ার কিছু নেই, আছে শুধু চাওয়ার। বগুড়ার মানুষ যদি তার পাশে থাকে, তাকে মানসিক শক্তি ও সমর্থন দেয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, ভালো ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বগুড়ার প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম, উপজেলা ও পৌরসভার মানুষের কাছে তিনি দোয়া চান, যাতে তারা তাদের সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।
শহীদ রহমানের বক্তব্য স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায় তিনি আবারও উচ্চারণ করেন ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
আরও পড়ুন: খাল খননসহ পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে হাত দিতে চাই: তারেক রহমান
২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সে সময় বগুড়া সদরসহ পুরো জেলার মানুষের মৌলিক প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বনানী-মাটিডালি চওড়া রাস্তা, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হয়তো শতভাগ সফল হওয়া যায়নি, তবে সরকারের আইন-কানুন ও রীতিনীতির মধ্য থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, ততটুকু করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, বগুড়া তার কাছে একটি ‘মডেল জেলা’র মতো ছিল। কারণ, তিনি সবসময় চিন্তা করতেন- যদি আল্লাহ সুযোগ দেন, তাহলে বগুড়ার মতো করে দেশের বাকি ৬৩টি জেলাকেও সাজাবেন। মানুষের একটি জেলার যে মৌলিক প্রয়োজন থাকে, তা ধীরে ধীরে বগুড়ায় গড়ে তোলা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছর শুধু বগুড়াই নয়, সমগ্র বাংলাদেশই প্রকৃত অর্থে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। দেশের মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পায়নি, কৃষকরা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে এবং শিল্পকারখানা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় তথাকথিত মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।
সরকারে গেলে দেশের কোনো অঞ্চলের প্রতি বৈষম্য করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধু বগুড়ার কথা চিন্তা করলে চলবে না, সমগ্র দেশের কথা ভাবতে হবে। বগুড়াকে যেমন এগিয়ে নেওয়া হবে, তেমনি পুরো দেশকেও সামনের দিকে টেনে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বগুড়াবাসীকেই সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।
চাকরি, ব্যবসা ও বাণিজ্যে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বগুড়ার নাম যেন কোনোভাবেই বিতর্কিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে, তবে সেই অধিকার আদায়ের সময় অন্য কোনো অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি নির্ধারণ করবে আগামী দিনে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকবে কি না এবং দেশ কোন পথে পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যেভাবেই হোক দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য একেএম মাহবুবুর রহমান, ভিপি সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু, পিপি আবদুস বাছেদসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ-উন-নবী সালাম ও খায়রুল বাশার।
এ সময় বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ও সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
উত্তরাঞ্চল সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরের পীরগঞ্জে যাবেন ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে। পরে তিনি রংপুর ঈদগাহ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








