‘নির্বাচন থেকে সততা পালিয়ে গেছে, আমানত রক্ষায় ভোট দিন’
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের কালীতলা, মানবকল্যাণ গ্রাম ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন তিনি।
এ সময় তিনি রাজনীতিতে সততা, আগামীর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অতীত সরকারের দমন-পীড়নের স্মৃতি তুলে ধরে ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে সততা হারিয়ে গেছে। তবে বিএনপি সেই সততা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ভোট একটি বড় আমানত, সেই আমানত যেন জনগণ তাকে দেন, কারণ তিনি এলাকার পরিচিত মানুষ।
গণসংযোগে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ভিক্ষা বা দয়ার ওপর নির্ভরশীল রাজনীতি করতে চায় না। দলটি কাজ করে বাঁচতে চায়।
সে জন্য দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশের তরুণরা শুধু এমএ-বিএ পাস করেই চাকরি পায় না। প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ ও বিদেশে কাজ করলে ভালো আয় করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের সেই পথে মনোযোগী করতে হবে, তাহলেই প্রকৃত উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে এসব কথা বলার সুযোগ ছিল না। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, মামলা ও হামলা চালানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলেছে, দলটি কাজ করতে চায়। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের মাধ্যমেই উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সবজি রাখার কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে কুটিরশিল্পে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের মধ্যে মানুষ আশা দেখতে পাচ্ছে: মির্জা ফখরুল
নিজের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁও তার জন্মস্থান। তার বাবা, তিনি নিজে এবং তাঁর ছোট ভাই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর ছোট ভাই চেয়ারম্যান থাকা সত্ত্বেও কোনো সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, ফলে উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর শহরের বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়ন কাজ আবার শুরু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতেও জনগণ তাকে ভোট দিয়েছেন, এবারও যেন সেই সমর্থন অব্যাহত থাকে।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি রাজনীতিকে ব্যবসা হিসেবে নেয় না। নিজের বাপ-দাদার জমিজমা বিক্রি করেই রাজনীতি করেছেন।
জমির অর্ধেক ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তার শেষ নির্বাচন, তাই জনগণের কাছে সুযোগ চান।
একই দিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের মানবকল্যাণ গ্রামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে এলাকার মা-বোনেরা ডিম, মুরগি ও সবজি বিক্রি করে যে টাকা জমানো হয়েছিল, তা দিয়ে মালা বানিয়ে তাকে দিয়েছেন এবং তাকে নির্বাচিত করেছেন।
তিনি বলেন, সেই আমানতের কখনো খেয়ানত করেননি। ঢাকায় তিনি যে গাড়ি ব্যবহার করেন তা ২০ বছর পুরোনো, আর ঠাকুরগাঁওয়ে যেটিতে এসেছেন সেটিও তার নিজের নয়- একজন সমর্থকের।
তিনি বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে এলাকার মানুষ তাকে চেনেন। এতদিন কেউ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আমানত খেয়ানতের অভিযোগ তুলতে পারেনি। ধানের শীষে ভোট দিলে তিনি সংসদে গিয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্য এক নির্বাচনী গণসংযোগে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং এরপর থেকেই বিএনপি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, শুধু আয়ের অঙ্ক বাড়ানোই উন্নয়ন নয়, প্রকৃত উন্নয়ন আসে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে। কৃষির উন্নতি হলে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে জাতি ভুল করবে।
তার দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। ১৮ বছর পর তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতায় গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে সার ও বীজ পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে মূল লক্ষ্য।
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারে দেশের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের সহযোগীদের পরিচয় জাতি জানে। আগে সে ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার পরই ভোট চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসব গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








