বিএনপির নতুন থিম সং ‘ভোট দিবো কিসে ধানের শীষে’
ছবি: সংগৃহীত
বৈধ প্রচারণার আনুষ্ঠানিক ঘন্টার শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী কর্মসূচি কার্যকরভাবে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে সিলেট সফরে রয়েছেন এবং সেখান থেকেই ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সময় বিএনপি কেন্দ্রে থেকে নির্বাচনী থিম সং প্রকাশসহ নতুন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও ইশতেহারের রূপরেখা উন্মোচন করা শুরু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিএনপি তাদের নির্বাচনী থিম সং উদ্বোধন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীনসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতা।
থিম সংটিতে ‘ভোট দিবো কিসে, ধানের শীষে’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’সহ বিএনপির পরিচিত নির্বাচনী স্লোগানগুলোকে সংগীতের রূপ দেওয়া হয়েছে।
দলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই থিম সংটি মাঠপর্যায়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে আরও প্রাণবন্তভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পরমাণুর কেন্দ্রে যেমন প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রনের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন থাকে, তেমনি বিএনপি বিশ্বাস করে একটি সুসংহত রাষ্ট্রীয় দর্শনে—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে। এই দর্শনের প্রতীক ধানের শীষ।
রিজভী আরও বলেন, ধানের শীষ কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি এখন গ্রাম বাংলার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ৫৯ নেতা বহিষ্কার
তিনি উল্লেখ করেন, নানা বিধিনিষেধ ও নিয়মের কারণে পাড়া-মহল্লায় আগের মতো নির্বাচনী উৎসবের পরিবেশ কমে গেছে, তবে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা এখনো কমেনি।
তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক শেখ হাসিনা মুছে দিতে পারেননি, আর কেউ পারবে না মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে এই প্রতীক মিশে আছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল ভিত্তি হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দুই নীতিগত কাঠামোকে পুনর্ব্যক্ত করে নতুন ইশতেহার গঠন ও প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
রিজভী বলেন, সবাইকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মানুষের যে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা আবারও ফিরে আসবে।
তিনি দলীয় বক্তব্য হিসেবে জানান যে, বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরিচালনার দাবি শক্তিশালী করবে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, এই প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু হয়ে দ্রুত পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। দলের নতুন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়া হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








