বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ৫৯ নেতা বহিষ্কার
ফাইল ছবি
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় একযোগে ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বহিষ্কৃতদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা পর্যায়ের শীর্ষ পদধারী এবং দলীয় টিকিটে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যও রয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৭৯টি আসনে বিএনপির ৯২ জন নেতা দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এদের মধ্য থেকেই যাচাই-বাছাই শেষে একযোগে ৫৯ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
এর আগে একই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় ৯ জনকে বহিষ্কার করে বিএনপি। পরে শেরপুরে একজন, মানিকগঞ্জে দুইজনসহ মোট ১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া জোটের শরিকদের আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় আরও ১৩ জন নেতাকে এর আগে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় দুইজনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করেছিল দলটি।
বিএনপির সর্বশেষ বহিষ্কারাদেশে বিভাগভিত্তিক তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন
রংপুর বিভাগে দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।
রাজশাহী বিভাগে নওগাঁ-৩ আসনের পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ আসনের তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ আসনের দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ আসনের ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ আসনের কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ আসনের জাকারিয়া পিন্টু।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী সফরে সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান
খুলনা বিভাগে কুষ্টিয়া-১ আসনের নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ আসনের মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ আসনের অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ এবং বাগেরহাট-৪ আসনের খায়রুজ্জামান শিপন।
বরিশাল বিভাগে বরিশাল-১ আসনের আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ আসনের মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।
ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল-১ আসনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ আসনের অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, নরসিংদী-৫ আসনের জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের মুমিন আলী এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের মহিউদ্দিন।
ময়মনসিংহ বিভাগে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ আসনের এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ আসনের মোর্শেদ আলম, নেত্রকোনা-৩ আসনের দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং শেরপুর-৩ আসনের আমিনুল ইসলাম বাদশাহ।
ফরিদপুর বিভাগে মাদারীপুর-১ আসনের লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারীপুর-২ আসনের মিল্টন বৈদ্য, রাজবাড়ী-২ আসনের নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২ আসনের এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব।
সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ আসনের মামুনুর রশীদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ আসনের শেখ সুজাত মিয়া।
কুমিল্লা বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ আসনের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুর-৪ আসনের এম এ হান্নান।
চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, নোয়াখালী-২ আসনের কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ আসনের প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব।
দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, জোটের স্বার্থ রক্ষা এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








