News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
আপডেট: ২১:৩৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

‘হাদির ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন নয়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সিইসির ব্যর্থতা’

‘হাদির ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন নয়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সিইসির ব্যর্থতা’

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন আখ্যা দিয়ে দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)- এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আজ শহীদ মিনারে মিলিত হয়েছি এটা প্রমাণ করতে- আমরা ঐক্যবদ্ধ, জুলাই যোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ। এখানে কোনো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আসিনি, এসেছি জুলাইয়ের কর্মী হিসেবে।

তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা কোনো ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি গোটা বাংলাদেশ এবং জুলাই বিপ্লবের ওপর আঘাত।

নাহিদ ইসলাম বলেন, হাদির ওপর হামলাকে কীভাবে নির্বাচন কমিশন বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে? যারা এমন বক্তব্য দেয়, তারা নৈতিকভাবে দায়িত্বে থাকতে পারে না। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নৈতিকভাবে এই দায়িত্বে থাকতে পারেন না। ৫ আগস্টের পর মামলা বাণিজ্য হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোকেও টার্গেট করা হয়েছে, মামলা প্রত্যাহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে—তবু সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা পদে বহাল রয়েছেন।

হাদির ওপর হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। 

তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টা পার হলেও খুনিদের গ্রেফতার করা যায়নি। কোথা থেকে খেলা চলছে, সেটাও বের করতে পারেনি তারা।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিরোধী দল দমনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা হলেও এখন তারা হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিজয় দিবসের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামীকাল উৎসব করতে রাস্তায় নামব না। আগামীকাল প্রতিরোধের জন্য রাস্তায় নামব। বিজয় উৎসব নয়, হবে প্রতিরোধের যাত্রা।

আরও পড়ুন: হাদির ওপর গুলির প্রতিবাদে শহীদ মিনারে ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে প্রতিরোধের ইতিহাস শুরু হয়েছে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত যদি মনে করে আগের মতো হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারচুপি করবে- তাহলে সেটি ভুল প্রমাণ করা হবে। ভারতের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল- এটা ভারতের মাথায় রাখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক হতে হবে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে।

সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, শুধু ওসমান হাদির জন্য নয়, বাংলাদেশের স্বার্থেই সবাই আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ভারতের দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

তিনি শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যর্পণের দাবিও জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, সিইসি কীভাবে বলতে পারেন এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো সিন্ডিকেটকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স–কালভার্ট রোড এলাকায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ী চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। 
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘আমরা সবাই হাদি হবো’, ‘এক হাদি রক্ত দেবে, লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়