ওসমান হাদীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা যা জানা গেছে
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর শারীরিক অবস্থায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গণমাধ্যমে জানান, ওসমান হাদীর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
তিনি বলেন, হাদী এখনো ডিপ কোমায় আগের অবস্থায় আছেন। শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তবে ইন্টারনাল রেসপন্স আছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসকেরা তাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা আগামী সোমবার রাতে শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি এবং পরবর্তী চিকিৎসা-পথ্য নির্ধারণ করা হবে।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতিশীল হলেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদীকে আহত করে। তিনি তখন রিকশায় করে বক্স কালভার্ট রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি গুলি তার কানের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। পরে সন্ধ্যার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ওসমান হাদীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, এভারকেয়ারে স্থানান্তর
চাঞ্চল্যকর এই হামলার ঘটনায় এখনো সরাসরি জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করা হয়েছে এবং এর মালিককে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এটিকে মামলার একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হামলাকারী সম্পর্কে তথ্য দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার।
হামলার পর ওসমান হাদীর সমর্থকেরা পতিত আওয়ামী লীগকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনাটিকে আসন্ন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি পৃথক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাদী ও খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন।
সিলেট থেকে আসা সোহেল আহমেদ বলেন, হাদী ভাইয়ের খবর নিতে এসেছি। একই হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়াও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদী একজন প্রতিবাদী মানুষ। যারা দেশের ভালো চায় না, তারাই তার ওপর হামলা করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস।
জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ওসমান হাদী গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








