বাম কানের নিচে গুলিবিদ্ধ ঢাকা-৮ প্রার্থী হাদী
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বিজয়নগরে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বক্স কালভার্ট–সংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাদী ওই সময় এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। জুমার নামাজের পর সেখানে তার কর্মী–সমর্থকদের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলছিল।
হামলার পরপরই সহযোগীরা হাদীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক নিশ্চিত করেছেন যে, হাদীর বাম কানের নিচে গুলি লেগেছে এবং তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।
ঢামেক সূত্র জানায়, গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং হবে বলে জানানো হয়েছে।
হাদীর এক সহযোদ্ধা জানান, জুমার নামাজের পর সবাই মিলে লিফলেট বিতরণ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও আলোচনা করার পরিকল্পনা ছিল। এরই মধ্যে সহযোদ্ধারা গুলির খবর পান।
জুমার নামাজের আগেও হাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে তিনি ফেসবুকে লেখেন, যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।
হাদী এর আগে ১৩ নভেম্বর অভিযোগ করেন, তাকে বিদেশি নম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, তার মোবাইলে বিদেশি উৎস থেকে একাধিক কল ও টেক্সট এসেছে, যেখানে তার পরিবারকে হত্যার, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার এবং তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ
সেদিন রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।
হাদী ওই পোস্টে আরও দাবি করেন যে, ১৭ তারিখ খুনি হাসিনার রায় হবে। ১৪০০ শহীদের রক্তের ঋণ মেটাতে কেবল আমার বাড়ি-ঘর না, যদি আমাকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, ইনসাফের এই লড়াই থেকে আমি এক চুলও নড়ব না।
তিনি লেখেন, এক আবরারকে হত্যার মধ্য দিয়ে হাজারো আবরার জন্মেছে এই দেশে। এক হাদীকে হত্যা করা হলে আল্লাহ লক্ষ হাদী তৈরি করে দেবেন। স্বাধীনতার এই ক্রুদ্ধ স্বরকে কোনোদিন রুদ্ধ করা যাবে না।
আরও যোগ করেন, লড়াইয়ের ময়দানে আমি আমার আল্লাহর কাছে আরও সাহস ও শক্তি চাই। আরশওয়ালার কাছে আমি হাসিমুখে শহিদি মৃত্যু চাই। আমার পরিবার ও সহযোদ্ধাদের আল্লাহর কুদরতি কদমে সোপর্দ করলাম। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। হাসবিয়াল্লাহ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে প্রচার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে, এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








