News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:৪২, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

হাদি হত্যাচেষ্টায় শুটার ফয়সালের বাবা-মা গ্রেফতার

হাদি হত্যাচেষ্টায় শুটার ফয়সালের বাবা-মা গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলার মূল অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে শুটার ফয়সালের বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১০)। অভিযানে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার দুজন হলেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোসা. হাসি বেগম (৬০)।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব-১০। অভিযানে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাচেষ্টা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি হিসেবে ফয়সালের বাবা ও মাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী জেলার সদর থানার তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে পানির ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল, ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতার দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন মোসা. জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে ভবনের চিপা দিয়ে ব্যাগটি নিচে ফেলে দেন এবং তার ভাগনে জামিল (১৮)-কে দিয়ে ব্যাগটি আবার তুলে আনান।

আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হার্টবিট স্বাভাবিক

এ সময় নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি তিনি ওই বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অপরটি তার মা মোসা. হাসি বেগমের হাতে তুলে দেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর ফয়সাল তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তবে নিজের অবস্থান নিরাপদ মনে না হওয়ায় তিনি আগারগাঁও ছেড়ে প্রথমে মিরপুর এবং পরে শাহজাদপুরে তার বাবা মো. হুমায়ুন কবিরের ভাতিজা আরিফের বাসায় যান।

এই সময় ফয়সালের ব্যবহৃত ব্যাগ বহনের জন্য তার বাবা একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং সঙ্গে কিছু টাকাও প্রদান করেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পরবর্তীতে তারা কেরাণীগঞ্জে ফয়সালের ছোট ভাই হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের বাসায় অবস্থান নেন। সেখানে তারা জুরাইন এলাকা থেকে দুটি নতুন মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করেন।

র‍্যাব জানায়, এ মামলায় এরই মধ্যে ফয়সালের স্ত্রী, প্রেমিকা, শ্যালক এবং হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজন হলেন আলমগীর হোসেন, যিনি হামলার সময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ২৪ মিনিটের দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

ঢাকার দুটি হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিঙ্গাপুরে পাঠায় সরকার। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পরিবারের সম্মতিতে রবিবার রাতে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতার করা ফয়সালের বাবা-মাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়