News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০৮, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় গৃহকর্মীর স্বামীর দায় স্বীকার

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যায় গৃহকর্মীর স্বামীর দায় স্বীকার

ফাইল ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার কন্যা নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)-কে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছেন আসামি গৃহকর্মী আয়েশার স্বামী রাব্বি শিকদার। 

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ওসমান মাসুম আদালতে রাব্বির জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

১০ ডিসেম্বর সকালে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকয়া গ্রাম থেকে গৃহকর্মী আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বি শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১১ ডিসেম্বর আদালত আয়েশার ৬ দিনের এবং রাব্বির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বাদী লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম গত ৮ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৫ ডিসেম্বর আসামি আয়েশা বাদী আজিজুল ইসলামের বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে যোগ দেন।

৮ ডিসেম্বর সকাল অনুমান ৭টার সময় তিনি নিজের কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। সেসময় বাদী একাধিকবার তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। নিরুপায় হয়ে সকাল অনুমান ১১টার সময় তিনি বাসায় ফেরেন এবং দেখেন, স্ত্রী ও কন্যার গলার বিভিন্ন জায়গায় কাটা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়া। মেয়ের গুরুতর অবস্থার কারণে পরিছন্নতাকর্মী মো. আশিকের মাধ্যমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিসাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশা গ্রেফতার

বাদী আজিজুল ইসলামের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে কাজের জন্য বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মেয়ের একটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বের হন। এই সময়সীমার মধ্যে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে থাকা অবস্থায় মা ও মেয়েকে ছুরি অথবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন বলে নিশ্চিত হন বাদী।

পুলিশ ও সূত্র জানায়, হত্যার সময় ব্যবহৃত ধারালো সুইচ গিয়ারটিও চুরি করা ছিল। ঘটনার আগে আয়েশা একইভাবে অন্য একটি বাসা থেকে চাকু চুরি করেছিলেন। 

মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি বাসায় তিনি চুরি করেছেন।

আদালতে রাব্বি শিকদার জানিয়েছেন, তিনি জানতেন না তার স্ত্রী গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি প্রথমবার জানতে পারেন। রাব্বি পেশায় নিরাপত্তাকর্মী, হেমায়েতপুর এলাকায় রাতে নিরাপত্তা দিতেন এবং দিনে ঘুমাতেন। হত্যার সময় তার স্ত্রী আয়েশার হাত কেটে গেলে সে প্রথমে নিজ হাতে তার চিকিৎসা করান। পরবর্তী সময়ে স্ত্রীকে নিয়ে সদরঘাটে যান এবং সেখানে আয়েশার চুরি করা একটি ল্যাপটপ বিক্রি করেন। এরপর বরিশাল হয়ে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকার দাদাবাড়িতে আত্মগোপন করেন।

রিমান্ড চলাকালে আয়েশা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। দুইটি জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি অনুশোচনায় ভুগছেন এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না।

মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ওসমান মাসুম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছেন। বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন, এক জোড়া চুড়ি এবং একটি গলার চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। সদরঘাটে বিক্রি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে আয়েশা হেমায়েতপুর এলাকায় থাকাকালীন নিজের গায়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া, তিনি ভাড়া বাসা ও জেনেভা ক্যাম্পের বিভিন্ন বাসায় চুরি করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে আটক ও বিভিন্ন বাসায় চুরি প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়