News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৫১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী

পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী

কুমারা জয়াকোডি। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা আমদানি নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর  পদত্যাগ করেছেনশ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির প্রেসিডেন্ট তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়ঙ্গা হেমাপালাসহ তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ করে দিতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন জয়াকোডি। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় দেশটির একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিম্নমানের কয়লা সরবরাহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিলে সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়, যা ছয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেছেন, সরকার কিছুই গোপন করছে না এবং সব ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তার দাবি, সরাসরি দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে জয়াকোডির বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। তবুও চাপের মুখে তিনি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন। তিনি বর্তমান সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী, যিনি দুর্নীতির অভিযোগে পদ ছাড়লেন।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সব কয়লা আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বীকার করা হয়েছে, নিম্নমানের কয়লার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি পূরণে গত মাসে জরুরি ভিত্তিতে তিন লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হয় এবং বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:  অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

কয়েক বছর আগে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কা এখনো জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ায় দেশটিতে একসময় জ্বালানি রেশনিং এবং সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির মতো ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়