হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, বিশ্বজুড়ে ইরানি জাহাজ জব্দের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া উত্তেজনা এবার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ আরও জোরদার ও সম্প্রসারিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে কেবল পারস্য উপসাগর নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এই কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা প্রদান করেন। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি-র প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ড্যান কেইন সাংবাদিকদের জানান, পারস্য উপসাগরের বাইরেও অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ইরানি পতাকাবাহী বা ইরানকে সহায়তাকারী যেকোনো জাহাজকে সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করবে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই তৎপরতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবরোধ শুরুর আগে ইরানের বন্দর ত্যাগ করা জাহাজগুলোকেও এই অভিযানের আওতায় আনা হবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল জাহাজ সেটি যেখানেই থাকুক না কেন তল্লাশি, আটক ও জব্দের সম্মুখীন হতে পারে।
জব্দের তালিকায় রয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ, পারমাণবিক উপাদান, তেলজাত পণ্য, লোহা, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানে তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তারা এই কঠোর অবস্থানে গেছে। সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে সব ধরনের জাহাজ প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: লেবাননে যুদ্ধবিরতির জেরে হরমুজ প্রণালি খুলে দিলো ইরান
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পাল্টাপাল্টি অবরোধে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, নতুন অবরোধ ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর দিকে যাত্রা করা ১৪টি জাহাজ ফিরে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে সরাসরি তল্লাশি বা আটকের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবারের পর এই প্রথম পাকিস্তানের তেলবাহী জাহাজ ‘শালামার’ অপরিশোধিত তেল নিয়ে সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর দিকে তাক করা আছে। অবরোধ তুলে না নিলে আমরা সেগুলো ডুবিয়ে দিতে প্রস্তুত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই অনড় অবস্থান পুরো বিশ্বকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








