News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সুদানে শান্তি মিশনে ৬ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘের নিন্দা

সুদানে শান্তি মিশনে ৬ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘের নিন্দা

ফাইল ছবি

সুদানের কর্দোফান অঞ্চলের কাদুগলি শহরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মধ্য সুদানের কাদুগলি শহরে অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের লজিস্টিক ঘাঁটিতে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। 

হামলার ফলে মোট ১৪ জন শান্তিরক্ষী হতাহত হন, যার মধ্যে ছয় জন নিহত ও আট জন আহত হয়েছেন। হতাহতরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক এবং তারা ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবিয়েই (ইউনিসফা)-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এক বিবৃতিতে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর লজিস্টিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এই ভয়াবহ ড্রোন হামলার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ কর্দোফানে শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।

সুদানের সেনাবাহিনী এই হামলার জন্য আধা-সামরিক গোষ্ঠী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছে। 

জানা গেছে, সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। তবে হামলার বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় ৬ বাংলাদেশি সেনা নিহত

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা বিদ্রোহী মিলিশিয়া এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ধ্বংসাত্মক মনোভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এছাড়াও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে জাতিসংঘের স্থাপনাটির ওপর ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস হামলার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের ছয় বীর শান্তিরক্ষীর শাহাদাত বরণ এবং আরও আটজন আহত হওয়ার সংবাদে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিপুল অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; বীরদের এই আত্মত্যাগ একদিকে জাতির গৌরব, অন্যদিকে গভীর বেদনার।

তিনি জাতিসংঘকে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং জানান, এই কঠিন সময়ে সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে।

এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সংঘাত এবং আধাসামরিক বাহিনীর ভূমিকা বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে। জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তৎপরতা প্রয়োজন, যাতে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং হামলার জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়