News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

অং সান সু চির বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা ছেলের

অং সান সু চির বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা ছেলের

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সাবেক গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে, মা আদৌ জীবিত আছেন কি না—তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে কিম অ্যারিস বলেন, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি তাঁর ৮০ বছর বয়সী মায়ের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি। এ সময়ের মধ্যে কেবল পরোক্ষ সূত্রে মাঝেমধ্যে অং সান সু চির হৃদ্‌যন্ত্র, হাড় ও মাড়ির সমস্যার কথা জানতে পেরেছেন।

জাপানের রাজধানী টোকিওতে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যারিস বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কেউ তার মাকে দেখেননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তো নয়ই, এমনকি তার আইনজীবী দলের সঙ্গেও যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ নীরবতা ও তথ্যশূন্যতার কারণে তার আশঙ্কা—“আমার জানামতে, তিনি হয়তো ইতোমধ্যেই মারা গেছেন। এমনকি তিনি মারা গেলেও আমি তা জানব না।”

অ্যারিস জানান, তার ধারণা অনুযায়ী অং সান সু চিকে রাজধানী নেপিদোতে আটক রাখা হয়েছে। দুই বছর আগে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া শেষ চিঠিতে সু চি বন্দি অবস্থায় গ্রীষ্ম ও শীতকালে কক্ষের চরম তাপমাত্রা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমার চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সশস্ত্র লড়াইয়ের ফলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ প্রেক্ষাপটে সু চিকে উসকানি, দুর্নীতি ও নির্বাচনি জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

চলতি মাসের শেষ দিকে মিয়ানমারের সামরিক সরকার জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিম অ্যারিস প্রকাশ্যে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অনেক বিদেশি সরকারের মতো তিনিও এটিকে ভুয়া ও সামরিক শাসন বৈধ করার কৌশল বলে মনে করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই নির্বাচন তাঁর মায়ের দুরবস্থা কিছুটা হলেও লাঘবের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে ফের গ্রেফতার করল ইরান

অ্যারিস বলেন, তার বিশ্বাস—জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং অং সান সু চিকে নিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইছেন। নির্বাচনের আগে বা পরে জনমত শান্ত করতে যদি তাকে মুক্তি দেওয়া হয় কিংবা গৃহবন্দি অবস্থায় নেওয়া হয়, তবে অন্তত সেটুকুই হবে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কোনো মুখপাত্র রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেননি। 

তবে ইতিহাস বলছে, দেশটির সামরিক বাহিনী অতীতে উৎসব বা গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার নজির রেখেছে। ২০১০ সালে একটি সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন পরই অং সান সু চি মুক্তি পেয়েছিলেন, যা তার দীর্ঘ গৃহবন্দিত্বের অবসান ঘটায়।

এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি মিয়ানমারের কার্যত নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এটি ছিল প্রায় এক চতুর্থাংশ শতাব্দীর মধ্যে দেশটির প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত নির্বাচন। তবে পরবর্তীতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে গণহত্যার অভিযোগ ওঠে এবং এতে তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিম অ্যারিস দাবি করেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযানে তার মায়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। যদিও ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে সু চি স্বীকার করেছিলেন যে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে গণহত্যার অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের সংকট ভুলে যাচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন অ্যারিস। 

তিনি মনে করেন, এক সময় তার মায়ের আন্তর্জাতিক মর্যাদা এতটাই উচ্চ ছিল যে পরিস্থিতি উপেক্ষা করা কঠিন ছিল। কিন্তু রাখাইন সংকটের পর সেই অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অ্যারিস জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার আহ্বান—মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো এবং অং সান সু চির মুক্তির দাবি জোরালো করা।

তিনি বলেন, তার মা কখনোই চাননি তিনি রাজনীতিতে জড়ান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আর কোনো বিকল্প নেই। “শেষ পর্যন্ত আমি তার ছেলে। আমি যদি এগিয়ে না আসি, তাহলে আর কার কাছ থেকে তা আশা করা যায়?”—বলেন কিম অ্যারিস।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়