পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে ৪০ মিনিট অপেক্ষায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
তুর্কমেনিস্তানের স্থায়ী নিরপেক্ষতার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মধ্যে একটি নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকটি ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়, যা পরে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত হয়।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) আয়োজিত ওই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে পুতিন–শেহবাজ বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হওয়ায় পুতিন নির্ধারিত সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে উপস্থিত হতে পারেননি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি-এর ভারতীয় সংস্করণ ‘আরটি ইন্ডিয়া’ প্রথমে জানায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে সঙ্গে নিয়ে একটি আলাদা কক্ষে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য অপেক্ষা করেন। ওই সময় পাশের কক্ষে পুতিন ও এরদোয়ানের বৈঠক চলছিল বলে দাবি করা হয়।
আরটি ইন্ডিয়ার প্রাথমিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে করতে শেহবাজ শরীফ বিরক্ত হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে পুতিন–এরদোয়ানের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, নাকি তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন—তা স্পষ্ট নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। নেটিজেনদের একাংশ ভিডিওটি নিয়ে বিদ্রূপ করেন এবং অনেকে এটিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন।
তবে পরে পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য মোড় নেয়। আরটি ইন্ডিয়া তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ওই ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট পোস্ট মুছে ফেলে। নতুন একটি পোস্টে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ঘটনাটি তাদের পূর্ববর্তী উপস্থাপনায় ভুলভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।
আরটি ইন্ডিয়ার সংশোধিত বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের তুর্কমেনিস্তানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করার বিষয়ে পূর্ববর্তী পোস্টটি মুছে ফেলেছি। সেটি ভুল উপস্থাপনা হতে পারে।”
পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেহবাজ শরীফ তুর্কমেনিস্তানে অবস্থানকালে কেবল পুতিন নয়, বরং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
আরও পড়ুন: ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি
এর পরিপ্রেক্ষিতে আরটি ইন্ডিয়া স্বীকার করে যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দরজা খুলে অনধিকার প্রবেশ করেছিলেন—এমন দাবি সঠিক ছিল না। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তারা তাদের আগের প্রতিবেদন সংশোধন করে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তথ্য উপস্থাপনার নির্ভুলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কনটেন্টের প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি, আরটি ইন্ডিয়া
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি/এনডি








