News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৫১, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি

ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রিস্টলের ব্রিস্টল সিটি মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারির সংরক্ষণাগার থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও কমনওয়েলথ–সম্পর্কিত ছয় শতাধিক মূল্যবান শিল্পকর্ম চুরির ঘটনা তদন্তে অ্যাভন ও সমারসেট পুলিশ গত বৃহস্পতিবার চারজন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। 

ওই সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। 

জাদুঘরের সংগ্রহশালায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে এই চুরি সংঘটিত হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ স্পষ্টভাবে জানায়নি কেন এতদিন পর সন্দেহভাজনদের ছবি প্রকাশ করা হলো। তারা শুধু জানিয়েছে, চুরির সময় ঘটনার আশপাশে দেখা চারজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী তারা।

ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল নিশ্চিত করেছে যে চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পদক, ব্যাজ, পিন, গয়না, রুপার সামগ্রী, খোদাই করা হাতির দাঁতের নিদর্শন, ব্রোঞ্জের মূর্তি এবং বহু ভূতাত্ত্বিক নমুনা। 

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব নিদর্শনের সাংস্কৃতিক মূল্য অত্যন্ত বেশি এবং এগুলোর অনেকই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, রাজপরিবার, উপনিবেশ ও কমনওয়েলথভুক্ত অঞ্চলের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে এসব সংগ্রহ বহুভাবে জড়িত ছিল। 

ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের ‘কালচার অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ’ বিভাগের প্রধান ফিলিপ ওয়াকার বলেছেন, এসব শিল্পকর্ম দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ব্রিটেন ও সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্কের বাস্তব সাক্ষ্য বহন করে এবং বিশ্বজুড়ে বহু দেশের অতীতের অমূল্য রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হত। 

আরও পড়ুন: মিয়ানমারের হাসপাতালে সেনাবাহিনীর হামলা, নিহত ৩৪

জাদুঘর কর্মকর্তারাও সংগ্রহগুলোর সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেছেন, এসব সামগ্রী ইতিহাসের জটিল ও কঠিন অধ্যায়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিটেকটিভ কনস্টেবল ড্যান বার্গান বলেন, চুরিটি শহরের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি, কারণ এসব সামগ্রী বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষের দান করা এবং যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে তুলে ধরত। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেউ তথ্য দিলে চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির সময় দেখা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে যেকোনো তথ্য তদন্তের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে।

ব্রিস্টল শহরের ইতিহাসের সঙ্গে আটলান্টিক দাস-বাণিজ্যের গভীর সংযোগ রয়েছে। ১৮০৭ সালে দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এখানকার জাহাজ প্রায় পাঁচ লাখ আফ্রিকানকে জোর করে আমেরিকার দিকে নিয়ে গিয়েছিল। সেই বাণিজ্য থেকেই শহরের বহু স্থাপত্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি গড়ে উঠেছিল। ২০২০ সালে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় ১৭শ শতকের কুখ্যাত দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কোলস্টনের মূর্তি ভেঙে নদীতে ফেলে দেওয়া আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার জাদুঘরের শিল্পকর্ম উধাওয়ের ঘটনা সেই অতীত বিতর্ক ও শহরের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ব্রিস্টল মিউজিয়ামের বৃহৎ সংগ্রহে আফ্রিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং আরও বহু অঞ্চলের পোশাক, চলচ্চিত্র, ছবি, কাগজপত্র ও অডিও রেকর্ডিং রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন সময়ের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও পরিবেশ বুঝতে সহায়ক ছিল। এসবই ইতিহাসের কঠিন ও বিতর্কিত পর্বগুলোর মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত। ফলে শত শত নিদর্শন একসঙ্গে উধাও হওয়াকে সংশ্লিষ্টরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বড় আঘাত হিসেবেই দেখছেন।

পুলিশ এবং ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল উভয়ই জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে, যাতে চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলো উদ্ধার করা যায় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়