News Bangladesh

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ১ জানুয়ারি ২০২৬

অবৈধ ফোন বন্ধে এনইআইআর কার্যকর, সচল থাকছে পুরনো সেট

অবৈধ ফোন বন্ধে এনইআইআর কার্যকর, সচল থাকছে পুরনো সেট

ফাইল ছবি

অবশেষে শুরু হলো বহুল আলোচিত ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো বন্ধের আওতায় আসবে। তবে বর্তমানে সচল থাকা ফোন এবং ব্যবসায়ীদের কাছে মজুত থাকা নিবন্ধিত ফোনের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা কোনো হ্যান্ডসেট—সেটি অনুমোদিত হোক বা অননুমোদিত—তা বন্ধ করা হবে না। এছাড়া, ব্যবসায়ীরা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্টকে থাকা যেসব ফোনের আইএমইআই (IMEI) তালিকা জমা দিয়েছেন, সেগুলোও সচল থাকবে। মূলত আজ থেকে বাজারে আসা বা নতুন যুক্ত হওয়া ফোনগুলোর বৈধতা যাচাই করবে এনইআইআর।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে তাদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধনের জন্য তারা তিন মাস সময় পাবেন। এই তিন মাস হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্কে সচল থাকবে এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে এই সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

এনইআইআর চালু হলেও এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা নির্ভর করছে সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানিয়েছেন, উপদেষ্টা পরিষদ যদি আজ (বৃহস্পতিবার) হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই এই কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে।

আরও পড়ুন: ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে না এনইআইআর, নতুন তারিখ ১ জানুয়ারি

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর 'গ্রে মার্কেট' বা অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে কার্যক্রম তিন মাস পেছানোর কথা শোনা গেলেও বিটিআরসি জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি।

বিটিআরসির মতে, অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন উদ্ধার এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি মূলত তিনটি বিষয় যাচাই করে: ১. আইএমইআই (IMEI) ২. সিম নম্বর ৩. আইএমএসআই (IMSI)

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এটি কোনো কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না। এটি কেবল নেটওয়ার্কে ডিভাইসের বৈধতা নিশ্চিত করে।

এনইআইআর নিয়ে জনমনে নজরদারির যে উদ্বেগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিটি নিজে নজরদারির হাতিয়ার না হলেও সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হলে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে নাগরিকদের এই শঙ্কা দূর করতে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে সিম ও ডিভাইস নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকদের নজরদারি বা হয়রানি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতেও চুরি হওয়া ও অবৈধ ফোন বন্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে। ডিজিটাল জালিয়াতি রোধ এবং অর্থনীতির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এনইআইআর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়