News Bangladesh

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এবার এক ছাতার নিচে মাস্কের রকেট সায়েন্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

এবার এক ছাতার নিচে মাস্কের রকেট সায়েন্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-কে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। 

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক মার্জারের তথ্য নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে পৃথিবী এবং এর বাইরেও কার্যকর একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘উদ্ভাবনী ইঞ্জিন’ গড়ে তোলা হবে। নতুন কাঠামোর অধীনে এআই প্রযুক্তি, রকেট সায়েন্স, মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট, সরাসরি মোবাইল ডিভাইসে যোগাযোগ এবং বিশ্বের প্রধান রিয়েল-টাইম তথ্য ও মুক্ত বক্তব্যের প্ল্যাটফর্ম এক ছাতার নিচে আসবে। স্পেসএক্স এখন থেকে এক্সএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok), সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদের মালিকানাও অর্জন করবে।

ইলন মাস্ক তার ব্লগে এই একীভূতকরণকে “পৃথিবী এবং এর বাইরের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্ভাবনী ইঞ্জিন” হিসেবে অভিহিত করেন। 

তার ভাষায়, এটি কেবল স্পেসএক্স বা এক্সএআই-এর নতুন অধ্যায় নয়, এটি মহাবিশ্বকে বোঝার এবং চেতনার আলোকে নক্ষত্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার এক নতুন মহাকাব্য।

এই বিশাল চুক্তির পেছনে মাস্কের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার স্থাপন। এআই প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, যা পৃথিবীতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জনসাধারণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে টেকসইভাবে পরিচালনা করা কঠিন- এমনটাই উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রায় সীমাহীন সৌরশক্তি এবং মহাশূন্যের প্রাকৃতিক শীতলতাকে কাজে লাগিয়ে খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। 

আরও পড়ুন: বন্ধ হচ্ছে অ্যাডোবি অ্যানিমেট

মাস্কের দাবি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই মহাকাশে এআই কম্পিউটিং পরিচালনার ব্যয় পৃথিবীর তুলনায় কম হতে পারে।

স্পেসএক্সের বিশাল রকেট ‘স্টারশিপ’ ব্যবহার করে কক্ষপথে লক্ষ লক্ষ এআই স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনাও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রায় ১০ লাখ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্দেশ্যে স্টারশিপকে উচ্চমাত্রার ভার বহন করে ঘন ঘন উৎক্ষেপণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট চালু হলে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

মাস্ক আরও বলেন, সূর্যের শক্তির সামান্য অংশ ব্যবহার করলেই তা বর্তমান বৈশ্বিক শক্তি ব্যবহারের তুলনায় বহু গুণ বেশি হবে। এআইয়ের জ্বালানি সংকট সমাধানে মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তির দিকে তাকিয়ে আছেন জেফ বেজোস ও গুগলের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি নেতারাও।

একীভূত হওয়ার ফলে মাস্কের মহাকাশ, এআই, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ কার্যত একই কাঠামোর অধীনে এলো। স্পেসএক্স পরিচালনা করছে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি, আর এক্সএআই তৈরি করেছে ‘গ্রোক’ চ্যাটবট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিকানাও এখন এই কাঠামোর অংশ। দুটি প্রতিষ্ঠানই নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে যুক্ত, এবং স্পেসএক্সের স্টারশিল্ড ইউনিট ইতোমধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একীভূত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, আর নতুন সত্তার মূল্য প্রায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে- যা একে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে। একই সঙ্গে স্পেসএক্স ২০২৬ সালের শেষের দিকে শেয়ারবাজারে (IPO) আসার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং এই মার্জার সেই আইপিওর আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫২৭ ডলার।

এর আগে বছরের শুরুতে এক্সএআই সব-স্টক লেনদেনের মাধ্যমে এক্স প্ল্যাটফর্মকে অধিগ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি টেসলা গত মাসে এক্সএআই-তে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাস্ক তার বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশ ক্রয় ও কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মার্জারের ফলে প্রযুক্তি বিশ্বে মাস্কের প্রভাব আরও সুসংহত হবে এবং তিনি মহাকাশ ও এআই প্রযুক্তির একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। তবে এত বড় ক্ষমতা একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া, পাশাপাশি গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়