News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:১৬, ১৫ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৩:৩৫, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

চিংড়ি পোনা আহরণে বিপন্ন অন্য প্রজাতিও

চিংড়ি পোনা আহরণে বিপন্ন অন্য প্রজাতিও

খুলনা: উপকূলীয় জেলাগুলোতে চলছে চিংড়ি পোনা আহরণের মহোৎসব। এ এলাকায় গড়ে ওঠা চিংড়ি ঘেরের প্রয়োজনে সরকারি নিষেধাজ্ঞাও নিবৃত করতে পারেনি পোনা শিকারিদের। নদী থেকে বাগদা-গলদা চিংড়ি পোনা আহরণ করার ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ছে অন্য প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক সম্পদ।

সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদী ও সাগর পারের সোনার চর থেকে শুরু করে মৌডুবী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার অভ্যন্তর ভাগের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিশাল এলাকায় চলছে পোনা শিকারিদের তাণ্ডব। সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরার আশাশুনি, দেবহাটা, শরনখোলাসহ বিভিন্ন উপজেলার নদ-নদী থেকে অবাধে পোনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পোনা শিকারিদের কাছ থেকে পোনা সংগ্রহ করে ক্রেতারা পোনা নিয়ে যাচ্ছে আড়তে। আড়তদারের মাধ্যেমে এগুলো স্থানীয় ঘের ছাড়াও চালান হয়ে যাচ্ছে চালনা, রামপাল, বাগেরহাট, পাইকগাছা, সাতক্ষীরা, ফয়লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। অবাধে নদী থেকে গলদা রেনু ও বাগদা পোনা শিকার করায় সামুদ্রিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। গলদা রেনু ও বাগদা পোনা ধরতে গিয়ে অন্য প্রজাতির কোটি কোটি রেণু পোনা, ডিম ও খাদ্য কণা ধ্বংস হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের সূত্রমতে, ১টি বাগদা বা গলদা রেনু সংগ্রহ করতে গিয়ে ২১২টি বিভিন্ন প্রজাতির পোনা এবং ১ হাজার ১টি মাছের খাদ্যকণা জুপ্লাঙ্কটন ও ফাইটো প্লাঙ্কটন ধ্বংস হয়ে যায়। মৎস্য সম্পদের এ ক্ষতির দিকটি পোনা শিকারি, ঘের মালিক ও ব্যবসায়ীরা বিবেচনায় আনছে না। স্থানীয় মৎস্যজীবী এবং প্রবীণ জেলেরা জানান, সচেতনতার অভাব, গলদা-বাগদা পোনা শিকারে ঘন ফাঁসের নেট জালের ব্যবহার, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, বেহন্তি জালে ছোটসহ সব ধরনের মাছ নিধন এবং ডিমওয়ালা মাছ মেরে ফেলার কারণে আশঙ্কাজনক হারে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

খুলনা জেলা মৎস্য অফিসার প্রফুল্ল কুমার সরকার নিউজবাংলাদেশকে বলেন, নদী থেকে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে পোনা শিকার করা নিষিদ্ধ। তারপরও পোনা শিকার চলছে। মৎস্য বিভাগ থেকে মাঝে মাঝে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এর সঙ্গে যুক্তদের জেল-জরিমানাও করা হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, এক সময়ে আমাদের নদ-নদীতে সামদ্রিক অনেক প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। মাছগুলো ছিল অনেক সুস্বাদু ও উপকারী। কিন্তু সেসব মাছের অনেক প্রজাতি আজ বিলুপ্ত হয়েছে শুধুমাত্র সচেতনার কারণে। তিনি বলেন, নদী থেকে বাগদা, গলদাসহ অন্যান্য প্রজাতির পোনা আহরণ বন্ধ করতে সরকার আইন করেছে। আইন ভঙ্গ করে পোনা আহরণ যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদেরকেই বেশি সচেতন হতে হবে।

মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতির দিক বিবেচনা করে ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বাগদা-গলদাসহ সব ধরনের চিংড়ি পোনা এবং প্রাকৃতিক উৎস থেকে অন্যান্য মাছের পোনা আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএইচ/এফই

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়