News Bangladesh

বিনোদন ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫১, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার নির্মাতা অনন্য মামুন, বান্নাহ ও অভিনেত্রী চমককে হুমকি

এবার নির্মাতা অনন্য মামুন, বান্নাহ ও অভিনেত্রী চমককে হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন অঙ্গনের নির্মাতা অনন্য মামুন, মাবরুর রশীদ বান্নাহ এবং অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অভিনেত্রী চমকের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে এবং নির্মাতা বান্নাহর অবস্থান (লোকেশন) ট্র্যাক করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে হুমকিদাতা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সাইবার অপরাধ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রশ্ন সামনে এনেছে।

জানা গেছে, ‘ডাল্টন সৌভাতো হীরা’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই অ্যাকাউন্ট থেকে অভিনেতা ওসমান শরীফ হাদিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। 

ধারাবাহিকভাবে একই অ্যাকাউন্ট থেকে এ ধরনের পোস্ট দেওয়ায় পরিকল্পিত সাইবার হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফেসবুকে দেওয়া একাধিক পোস্টে নির্মাতা অনন্য মামুনকে নিয়ে কটূক্তিমূলক ও হুমকিমূলক মন্তব্য করা হয়। 

সেখানে লেখা হয়, এই বাটপারের নাম উল্লেখ করতেও কাল ভুলে গেছিলাম। অনন্য মামুন— দ্য পিম্প। ও যেন সহি সালামতে ভালো থাকে। আর ওর ফিল্ম যেন কেউ প্রডিউস করার চেষ্টা না করে। করলে সেটা নিজ দায়িত্বে করবে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণই নয়, বরং তার পেশাগত কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

একই পোস্টে নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ ও অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমককে লক্ষ্য করে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন: প্রথমবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মিম

সেখানে বলা হয়, মাবরুর রশীদ বান্নাহ ও রোকেয়া জাহান চমক— বঙ্গবন্ধু র ৩২ ভাঙার পর কুৎসিত উল্লাসকারী লাল বদর। এই দুইজনকে যদি মিডিয়ায় কেউ কাজে ডাকার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা নিজ দায়িত্বে ডাকবেন। এই নব্য রাজাকারদের কাজে নেওয়ার ফলে আপনাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার দায়ভার কারো নয়।

এই বক্তব্যকে অনেকেই প্রকাশ্য উসকানি ও ভয় সৃষ্টির ভাষা হিসেবে দেখছেন।

হুমকিদাতা আরও দাবি করে, বান্নাহ ও চমকের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের অবস্থান ট্র্যাক করা হচ্ছে। 

পোস্টে বলা হয়, এই দুই লাল বদরের যাবতীয় এক্সেস ট্রেস করা হবে। আমাদের আইটি টিমের মাধ্যমে সব তথ্য আমাদের হাতে চলে আসবে। এই দুইজনের প্রাপ্য তাদেরকেই বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দাবি ডিজিটাল নজরদারি ও সম্ভাব্য সাইবার অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্যে হুমকি, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ফাঁস এবং লোকেশন ট্র্যাক করার দাবি বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার আইন ও ফৌজদারি আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তা বিঘ্নের হুমকি দেওয়ার বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার অপরাধ ইউনিটের হস্তক্ষেপ দাবি করে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রকাশ্যে এ ধরনের হুমকি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবির কারণে বিনোদন অঙ্গনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আইনগত ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়