News Bangladesh

জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ২১:০০, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

নেত্রকোণার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল দেশের ৫৮তম জিআই স্বীকৃতি

নেত্রকোণার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল দেশের ৫৮তম জিআই স্বীকৃতি

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি দেশের ৫৮তম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রায় ১২০ বছরের ইতিহাস ও স্বাদের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই মিষ্টি এখন শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, পুরো জাতির ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পেয়েছে।

নেত্রকোণা শহরের বারহাট্টা রোডে গড়ায় গয়ানাথ ঘোষ প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। পরে ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে যাওয়ার আগে দোকানের দায়িত্ব হাতে নেন কর্মচারী নিখিল চন্দ্র মোদক, যিনি দোকানের নাম ‘গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ অপরিবর্তিত রেখে তা চালিয়ে গেছেন। ছোট বালিশের মতো আকারে হওয়ায় মিষ্টির নামকরণ হয় ‘বালিশ মিষ্টি’।

মিষ্টির স্বাদ ও তৈরির পদ্ধতি অন্যান্য মিষ্টির থেকে আলাদা। খাঁটি দুধ, ছানা, চিনি ও ময়দার অনন্য মিশ্রণে তৈরি এই মিষ্টি, ভাজা ও চিনির গরম রসে ডুবিয়ে, পরে ক্ষীরের প্রলেপ দিয়ে পরিবেশন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, পরিবার ও নিজস্ব ভোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এটি পরিচিত এবং প্রবাসী নেত্রকোণাবাসীদের মাধ্যমে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকাতেও পৌঁছে গেছে।

২০২৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন: মহাখালীর বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্ণধার খোকন চন্দ্র মোদক বলেন, “জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় এটি আমাদের এবং নেত্রকোণা জেলার গৌরব। দেশের ঐতিহ্যের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় বালিশ মিষ্টি যোগ হওয়ায় আনন্দের শেষ নেই।”

এর আগে, ২০২১ সালে নেত্রকোণার দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদা মাটি জিআই স্বীকৃতি পেয়ে দেশের ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়