News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৭, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

এনইআইআর বিরোধী আন্দোলনে রণক্ষেত্র কারওয়ান বাজার

এনইআইআর বিরোধী আন্দোলনে রণক্ষেত্র কারওয়ান বাজার

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা বাতিল এবং বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। 

রবিবার (০৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)-এর ব্যানারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তারা পরিবারসহ সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর ফলে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো ০১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এনইআইআর ব্যবস্থা বাতিল করা এবং বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় আটক ব্যবসায়ীদের নিঃশর্ত মুক্তি।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নিতে পুলিশ এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরাতে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের শপিংমল ও আশ্রয়স্থলে সরে যান।

তবে কিছু সময় পর তারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

আরও পড়ুন: তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থীদের ফার্মগেট অবরোধ

দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আবার সড়কে এসে বসে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পুনরায় জলকামান ব্যবহার করে এবং পরে লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে ব্যবসায়ীরা আবারও জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে একযোগে ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের অভিযানের পর আন্দোলনকারীরা পিছু হটে বাংলামোটরের দিকের সড়কে অবস্থান নেন। সেখানে তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় (দুপুর ২টা ১০ মিনিট) কারওয়ান বাজার ও আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীদের অবস্থান ও সংঘর্ষের কারণে কারওয়ান বাজার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা কার্যত পুরো রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

এমবিসিবি জানিয়েছে, এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ এবং আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখা হবে।

সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

এই সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। রবিবারের এই সহিংস আন্দোলনকে সেই বিরোধিতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়