নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ২৫ মে ২০২৬

ঈদের আগে ৩৬.৫% কারখানায় মেলেনি বোনাস

ঈদের আগে ৩৬.৫% কারখানায় মেলেনি বোনাস

ফাইল ছবি

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দেশের আটটি প্রধান শিল্প অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩৬ শতাংশ কারখানায় রবিবার (২৪ মে) বিকেল চারটা পর্যন্ত শ্রমিকদের পবিত্র ঈদুল আজহার বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। একই সাথে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ৫ শতাংশ কারখানার শ্রমিকেরা, যাদের গত এপ্রিল মাসের মাসিক বেতনও এখনো বকেয়া রয়ে গেছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও বিপুল সংখ্যক কারখানায় বেতন-বোনাস না হওয়ায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

যদিও শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এক মাসের মধ্যে এপ্রিলের বেতন, ঈদের বোনাস এবং মে মাসের আংশিক অগ্রিম বেতন একসাথে পরিশোধ করতে গিয়ে তারা তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন, যার ফলে এই বিলম্ব ঘটছে। তবে চলতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হবে বলে মালিকপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

এর আগে গত ১৪ মে ঢাকার সিরড্যাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) এবং আরএমজিবিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস আগামী ২১ মের মধ্যে এবং মাসিক বেতন নির্ধারিত তারিখে আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শ্রমিকের বেতন-বোনাস না দেওয়াকে মালিকদের একটি অংশের চরম গাফিলতি বলে মনে করছেন এ খাতের শ্রমিকনেতারা। 

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন এই পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পোশাকশিল্পের মালিকেরা সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ পেয়ে আসছেন; তারপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকের পাওনা ও বোনাসের টাকা পরিশোধ না করাটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। 

শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ, সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন–বোনাস না দিলেও মালিকদের কোনো জবাবদিহি বা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না, আর এই প্রশাসনিক শিথিলতার কারণেই প্রতি বছর ঈদের আগে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না।

দেশের শিল্প খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, তারা সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট এই আটটি শিল্পাঞ্চলের মোট ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্পকারখানা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের জন্য ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা এডিবির

তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত দেশের ৫৩৫টি কারখানার শ্রমিকদের গত এপ্রিল মাসের বেতন সম্পূর্ণ বকেয়া রয়ে গেছে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানই রয়েছে ১১৫টি। বোনাস পরিশোধের ক্ষেত্রে শিল্প পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৪৯৩টি অর্থাৎ মাত্র ৬৩ শতাংশ কারখানা তাদের শ্রমিকদের বোনাস বুঝিয়ে দিয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এখনো ৩ হাজার ৭৪৫টি বা ৩৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ কারখানার বোনাস দেওয়া বাকি রয়ে গেছে। এছাড়া শিল্প পুলিশের পর্যবেক্ষণে থাকা বিজিএমইএর অন্তর্ভুক্ত ১ হাজার ৭৯০টি কারখানার মধ্যে ৩৫ শতাংশ এবং বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ৭০৮টি কারখানার মধ্যে ৩৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান গতকাল পর্যন্ত তাদের শ্রমিকদের ঈদ বোনাস বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

শিল্প পুলিশের এই হতাশাজনক রিপোর্টের বিপরীতে ভিন্ন দাবি করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার পর্যন্ত তাদের সচল ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাই বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন করেছে এবং ৫৩২টি কারখানা চলতি মে মাসের আংশিক অগ্রিম বেতনও শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে। 

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মূলত দুটি কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে একটির সমাধান ইতিমধ্যে করা হয়েছে এবং অন্যটির সমস্যা সমাধানের জন্য জোর তৎপরতা চলছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেসব কারখানার বেতন ও বোনাস এখনো বাকি রয়েছে, তারা সোম ও মঙ্গলবারের (আজ ও কাল) মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করে কারখানা ছুটি দিয়ে দেবে।

অন্যদিকে, নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম তাদের সচল ৭৮৮টি সদস্য কারখানার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানান, তাদের ৯৯ দশমিক ১১ শতাংশ কারখানা ইতিমধ্যেই গত এপ্রিল মাসের বেতন সফলভাবে পরিশোধ করেছে। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা চলতি মে মাসের ১০ বা ১৫ দিনের অগ্রিম বেতনও শ্রমিকদের হাত তুলে দিয়েছে। 

বাকি থাকা কিছু কারখানার বিষয়ে তিনি জানান, সোম, মঙ্গল ও বুধবারের মধ্যে ছুটিরকালীন সময়েই তারা বোনাস পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সব কারখানায় শতভাগ পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত হয় কি না, তা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন সাধারণ শ্রমিকেরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়