নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৪০, ২১ মে ২০২৬

টানা ৩ দফা কমার পর ভরিতে বাড়ল ২১৫৮ টাকা

টানা ৩ দফা কমার পর ভরিতে বাড়ল ২১৫৮ টাকা

ফাইল ছবি

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে মহামূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। টানা তিন দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য, যা এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য সংশোধনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। 

বাজুস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ জুয়েলারি বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি এবং খাঁটি স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নতুন দর ঠিক করা হয়েছে।

নতুন মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সমহারে বাড়ানো হয়েছে। যার মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। 

এর আগে, সবশেষ গত ২০ মে (বুধবার) সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এক দফা হ্রাস করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা আজ এক দিনের ব্যবধানেই আবার বৃদ্ধি পেল।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী

রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের অস্থিরতায় স্বর্ণের মূল্যে এক নজিরবিহীন ওঠানামা লক্ষ করা যাচ্ছে। শেষ ১০টি দাম সমন্বয়ের মধ্যে সাত বারই দাম কমানোর ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে চলতি সপ্তাহের সবশেষ টানা তিন দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বমোট ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা হ্রাস পেয়েছিল। এর আগে গত ১৬ মে সকালে যখন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তখন ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আজকের নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বর্ণের দাম মূলত গত ১৬ মে-র আগের সেই সমমূল্যের অবস্থানেই পুনরায় ফিরে গেছে।

চলতি ২০২৬ সালে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের দামে এক ঐতিহাসিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসেই বাজুস এখন পর্যন্ত মোট ৬৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে, যার মধ্যে ৩৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩১ বার দাম কমানো হয়েছে। এর বিপরীতে বিগত ২০২৫ সালের পুরো বারো মাসে দেশের বাজারে সর্বমোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দামের ঘনঘন পরিবর্তনের হার অনেক বেশি, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন ও রেকর্ড সৃষ্টি হলেও দেশের বাজারে এই মুহূর্তে রূপা বা রৌপ্যের মূল্যে কোনো প্রভাব পড়েনি, অর্থাৎ রুপার দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজুসের পূর্বনির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ৩৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ বার দাম বেড়েছে এবং ১৮ বার কমেছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং মাত্র ৩ বার হ্রাসের রেকর্ড রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়