News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:২৭, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নবম পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন দ্বিগুণ হলেও কাটছে না ভাতার বৈষম্য

নবম পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন দ্বিগুণ হলেও কাটছে না ভাতার বৈষম্য

ফাইল ছবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের গুঞ্জনে সারাদেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে একইসাথে আশা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত সবার মতোই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। তবে মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতার মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় চরম বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারি বেতন কাঠামোর অধীনে যারা সরকারের কাছ থেকে বেতন গ্রহণ করেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে তাদের বেতনও সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়ার কথা। 

মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, নতুন পে-স্কেল চালু হলে সংশ্লিষ্ট সবাই ওই কাঠামোর সুবিধা পাবেন।

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী নন। তারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পেলেও সেটি অনুদান হিসেবে দেওয়া হয় এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান না। যদিও এই অনুদান সরকারই প্রদান করে এবং শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন গ্রেডও রয়েছে। 

শিক্ষক-কর্মচারীদের এই আশঙ্কার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পে কমিশনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সরকারের বিদ্যমান বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষকদের মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কথা।

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়ার সংবাদ শিক্ষকদের জন্য স্বস্তির হলেও ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য তাদের হতাশ করছে। 

আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকে সরকার

শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। মূল বেতন বাড়লে বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বাড়বে। 

তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পেয়ে থাকেন। বিপরীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এই হার মাত্র ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও চিত্রটি একই রকম হতাশাজনক। 

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বৈষম্য থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকরা মাসে নামমাত্র ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের এই ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই।

এ ছাড়া বেতন কাঠামোর অন্যান্য অনুষঙ্গ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টিফিন ও বিনোদন ভাতার মতো সাধারণ সুবিধাগুলো থেকেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বঞ্চিত। সরকারি কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং তারা নির্দিষ্ট সময় পর পর মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পান। অথচ শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের কোনো ভাতার ব্যবস্থা নেই। 

সবচেয়ে বড় বৈষম্য দেখা দিয়েছে সন্তানদের শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা পাচ্ছেন, যা নতুন স্কেলে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত এই সুবিধা বলবৎ থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য কোনো শিক্ষা ভাতা বরাদ্দ রাখা হয়নি।

সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্য বহাল থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়