News Bangladesh

ব্যবসা-বাণিজ্য ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

বাজারে মৌসুমি সবজি উঠলেও কমছে না দাম

বাজারে মৌসুমি সবজি উঠলেও কমছে না দাম

ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতিতে শীতের স্নিগ্ধ হাওয়া বইছে, বাজারেও উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি সবজির প্রাচুর্য। কিন্তু দামের চিত্র উল্টো-সবজির বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। ফুলকপি, শিম, গাজরসহ শীতের সবজি ভরপুর থাকলেও খুচরা বাজারে দাম কমছে না।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছ ও মাংসসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই চড়া। পাইকারিতে সামান্য কম হলেও তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে না, ফলে দামের চাপ পুরোপুরি ভোগ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

এদিনের বাজার ঘুরে জানা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো প্রতি কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। অন্যদিকে, মাছের দামেও কোনো স্বস্তি নেই।

মাঝারি আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও, বেগুন, গাজর, শসা, কাঁচা মরিচ এবং নতুন আলু প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও, ঝিঙা ও শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং বরবটি ও করলা ১০০ টাকার ঘরে রয়েছে। 

অন্যদিকে, মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ (মাঝারি) ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বড় চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এই চড়া দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বাজেটের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে বয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালী ২৮০ টাকা, লেয়ার ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা আমিল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, শীত আসলে সবজির দাম কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু এবার উল্টো। দাম বেশি হওয়ায় আগে যেসব সবজি এক কেজি করে কিনতাম, এখন তার অর্ধেক কিনতে হচ্ছে। পরিবারের বাজেট সামলানো কঠিন।

মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, বছরের সব সময় ধরেই মাছের দাম খুব বেশি থাকে। এত বেশি দামে মাছ কিনে খাওয়া সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য।

অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ ঘাটতি এবং পরিবহন ব্যয়ের কথা। মালিবাগ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আসাদ আলী জানান, পাইকারি বাজারেই সরবরাহ কম, ফলে আমরা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে প্রথম ৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো এক বিলিয়ন ডলার

যাত্রাবাড়ী আড়তের ব্যবসায়ী নাঈম আহমেদের মতে, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির কারণে ক্ষেতের গাছ নষ্ট হয়েছে এবং ফলন কমে গেছে। এছাড়া পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত কয়েক ধাপে হাতবদল হওয়ায় দাম বাড়ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি সবজি উঠলেও সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এই উচ্চমূল্যের চাপ ভোক্তাদের বয়ে বেড়াতেই হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়