News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৫৫, ১ জুন ২০২৬

৬-২ গোলে পানামাকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের বার্তা ব্রাজিলের

৬-২ গোলে পানামাকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের বার্তা ব্রাজিলের

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগে ঘরের মাঠে নিজেদের শক্তি ও কৌশলের এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে গ্যালারিবোঝাই ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে পানামাকে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে সেলেসাওরা। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলের গতি, নিখুঁত পাসিং ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় ছিল পানামার রক্ষণভাগ। বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে নামার আগে ঘরের মাঠে বিদায়ী ম্যাচটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা যেভাবে গোল উৎসবে রাঙিয়ে রাখলেন, তা নিশ্চিতভাবেই মূল টুর্নামেন্টের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

কৌশলগত দিক থেকে এই প্রীতি ম্যাচটি ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুই দলের মধ্যকার পূর্ব সমঝোতা অনুযায়ী, আসন্ন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ও কৌশল ঝালিয়ে নিতে পুরো স্কোয়াডকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছেন কোচ আনচেলত্তি। তিনি মূলত দুটি ভিন্ন ব্রাজিল দলকে মাঠে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। প্রথমার্ধের শক্তিশালী একাদশ খেলানোর পর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলপোস্টে অ্যালিসনের জায়গায় এডারসনকে নামানোসহ মাঠের ১০ জন খেলোয়াড়ই একযোগে বদলে ফেলেন কোচ। এই পরীক্ষামূলক ম্যাচে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন সেন্টার ব্যাক লিও পেরেইরা। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের আধিপত্য কতটা একচেটিয়া ছিল, তা স্পষ্ট হয় পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে ম্যাচে ব্রাজিলের মোট শট ছিল ১৪টি এবং দলটির এক্সপেক্টেড গোলস (xG) ছিল ২.২৬।

খেলার শুরু থেকেই পানামাকে চেপে ধরে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারা বজায় রাখে স্বাগতিকরা। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পানামার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা নিজেদের অর্ধে বল জোগানোর সময় ভুল করলে ক্ষীপ্রতার সঙ্গে তা কেড়ে নেন মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। তার বাড়ানো বল ধরে কিছুটা এগিয়ে, ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে (কারো মতে খেলা শুরুর মাত্র এক মিনিটে) বক্সের বাইরে ২৩ মিটার দূর থেকে এক বুলেট গতির শট নেন ভিনিসিউস জুনিয়র। পানামা গোলরক্ষক মসকুয়েরাকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বল জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে এই লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি তারা। খেলার ধারার বিপরীতে ম্যাচের ১২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরে পানামা। মাইকেল মুরিলোর নেওয়া ফ্রি-কিকটি ব্রাজিলের মাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন (ডিফ্লেক্টেড) করে নিজেদের জালে জড়ালে এটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য হয় এবং ম্যাচে ১-১ সমতা আসে।

আরও পড়ুন: টাইব্রেকারে আর্সেনালের স্বপ্নভঙ্গ, ইতিহাস গড়ে ফের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

গোল হজম করলেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি আনচেলত্তির শিষ্যরা। সমতায় ফেরার ধাক্কা সামলে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ২৩ মিনিটে ভিনিসিউস ও রাফিনহার দুর্দান্ত ওয়ান-টু-ওয়ান কম্বিনেশন থেকে গোল আসতে পারত, তবে রাফিনহার শটটি জালের বাইরের অংশে লাগে। অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে ব্রাজিলের কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় গোল। বাম প্রান্ত থেকে অ্যালেক্স সান্দ্রোর নিখুঁত পাস পেয়ে একক দক্ষতায় পানামার দুজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানান ভিনিসিউস। এরপর তার বাড়ানো চমৎকার ক্রস থেকে পোস্টের সামনে সতর্ক থাকা অধিনায়ক ক্যাসেমিরো আলতো হেডে বল জালে পাঠান। ভিডিও রিভিউ (VAR) শেষে অফিশিয়ালরা গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর মাঝে ৪-১ মিনিটে রাফিনহা ব্যবধান বাড়ানোর আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ নতুন ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামা ব্রাজিলের ‘নতুন’ দলটি পানামার রক্ষণভাগের ওপর রীতিমতো ঝড় তোলে। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ব্রাজিলের হাই-প্রেসের মুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন পানামা গোলরক্ষক মসকুয়েরা। সেই ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের বাইরে ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে গোল করেন ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। এর ঠিক সাত মিনিট পর, অর্থাৎ ৫৯ মিনিটে ব্যবধান ৪-১ করেন লুকাস পাকেতা। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের চমৎকার বোঝাপড়ায় পাকেতার নেওয়া শটটি পানামার কর্দোবার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।

ব্রাজিলের গোলের ক্ষুধা এখানেই শেষ হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ফাউল হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। স্পট-কিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলের পক্ষে পঞ্চম গোলটি করেন ইগর থিয়াগো। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে পাকেতার ডিফেন্স-চেরা পাস ধরে বক্সে ঢুকে বোটফোগোর ডিফেন্ডার দানিলোর চমৎকার টার্ন ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের ষষ্ঠ গোলটি পায় সেলেসাওরা। ম্যাচ পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়লেও একদম শেষ মুহূর্তে এসে সান্ত্বনাসূচক দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় পানামা। কার্লোস হার্ভের একটি চোখধাঁধানো ও দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট ব্রাজিলের জাল কাঁপিয়ে ব্যবধান কমায়। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের এক দাপুটে ও ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

পানামার বিপক্ষে এই বিশাল জয়ের পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি মিশনের পরবর্তী গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৬ জুন (বাংলাদেশ সময় ৭ জুন ভোর) যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেভল্যান্ডের হান্টিংটন ব্যাংক ফিল্ডে আরেকটি হাই-ভোল্টেজ প্রস্তুতি ম্যাচে মোহামেদ সালাহর মিশরের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই ম্যাচটি দিয়েই নিজেদের চূড়ান্ত রণকৌশল স্থির করবে সেলেসাওরা।

মিশর বধের মিশন শেষ করেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ব্রাজিলের আসল বিশ্বকাপ অভিযান। এবারের বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দেখে নেওয়া যাক ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের চূড়ান্ত সময়সূচি:

১৪ জুন: মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।

২০ জুন: দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।

২৫ জুন: গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির দল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়