মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৭
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত উত্তেজনা নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। গত সপ্তাহে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর আকস্মিক এক বোমাবর্ষণের পর এর প্রত্যক্ষ প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, কুয়েতের ওই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর চারজন মার্কিন সেনাসদস্য এবং তিনজন বেসামরিক ঠিকাদারসহ মোট সাতজন আহত হন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আহতদের কারও আঘাতই গুরুতর ছিল না এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তারা পুনরায় নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।
ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দক্ষিণ ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসের বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো আকস্মিক আকাশপথে হামলা চালায়।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ০১:২০) কুয়েতের ওই মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। অবশ্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি কুয়েতি সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সফলভাবে আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: খসড়া চুক্তিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা শুরু করে। এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও চুপচাপ বসে থাকেনি; তারা পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে শুরু করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি ও তেল পরিবহনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর সামুদ্রিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় তেহরান, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
সংকট চরম আকার ধারণ করলে আঞ্চলিক পরাশক্তি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতার পর গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্থায়ী সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যায়।
পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
একই সঙ্গে তিনি মাঝে মাঝেই দাবি করছেন যে, একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে মুখে শান্তির কথা বললেও ওয়াশিংটন মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানি বন্দরগামী কিংবা ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা সমস্ত বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে। ফলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও কুয়েতের এই সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে যে, যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়া যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








