পর্যটকরা নোনা জলে ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঈদের টানা ছুটিতে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। আনন্দ, হৈ-হুল্লোড় আর সাগরের নোনাজলে মাতোয়ারা ভ্রমণপিপাসুরা। সাগরতীর যেন হয়ে উঠেছে সব বয়সী মানুষের মিলনমেলা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে লাইফ গার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।
দেখা যায়, সাগরের ঢেউ আর নোনাজলের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন হাজারো পর্যটক। তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে কেউ নামছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন সৈকতের নির্মল সৌন্দর্য।শুধু সমুদ্রস্নানই নয়, সৈকতের বালিয়াড়ি, কিটকটসহ বিনোদন স্পটজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো সৈকত এলাকা। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।
শিশু পর্যটক ইবরান বলেন, সমুদ্র খুবই ভালো লাগে। সৈকতের বালু দিয়ে খেলাধুলা করে অনেক আনন্দ পাচ্ছি। ঈদের ছুটিতে ভাই-বোনদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাতে পেরে খুবই আনন্দিত। পর্যটক নিশী চৌধুরী জানান, শহরের ব্যস্ত জীবনে প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ খুব কম মেলে। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে আসা। সমুদ্রের গর্জন, শীতল বাতাস, মনোরম আবহাওয়া ও বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে তারা দারুণ আনন্দ উপভোগ করছেন।
পর্যটক শামীমা আক্তার কাজল বলেন, সমুদ্রসৈকতে ঘোড়ায় চড়া ও পানিতে খেলাধুলা করতে ভীষণ ভালো লাগে। বিশেষ করে সৈকতের আনন্দঘন পরিবেশ সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। সাগরতীরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। এই ভিড়ের মাঝে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে তাই তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরে নিরাপদ গোসল নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে লাইফ গার্ড কর্মীরা।
সী-সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে। তবে বর্তমানে সমুদ্র বেশ উত্তাল রয়েছে এবং বড় বড় ঢেউ দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফ গার্ড কর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, তিনটি সৈকত এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, পাশাপাশি পেট্রোল টিম নিয়মিত টহলে রয়েছে। যেসব স্থানে পানির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে রেসকিউ বোর্ডসহ অতিরিক্ত লাইফ গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যেসব সৈকত এলাকায় লাইফ গার্ড সেবা নেই, সেসব স্থানেও সচেতনতামূলক যোগাযোগ চালানো হচ্ছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদ লাইফ গার্ড সেবা এলাকায় গোসল করেন।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াডের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), মোবাইল টিম ও স্ট্যান্ডবাই টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত
সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পর্যটকরা ঘুরে দেখছেন কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় ও বিনোদন কেন্দ্রও। ঈদের টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েকদিনও কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








