নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ২৯ মে ২০২৬

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, দুই সিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা-পরবর্তী কোরবানির বর্জ্য এবং পূর্বের জমে থাকা আবর্জনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপসারণে চরম গাফিলতি ও দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই শীর্ষ আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে জরুরি ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের চাকরি সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত (ওএসডি) করে আইনানুগ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল ছাড়াই নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শনে বের হন। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই ঘণ্টার এই আকস্মিক পরিদর্শনে নগরীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মূলত প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা অভিযানের পরপরই দুই সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ও নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাময়িক বরখাস্ত ও ওএসডি হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন— ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জোন-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জোন-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

আরও পড়ুন: আদ্-দ্বীনের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে মিলেছে নির্মাণ গাফিলতি

মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখেন। এসব এলাকার মূল সড়কের ওপরেই ঈদের জবাই করা পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি ও দুর্গন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে শতভাগ বর্জ্য অপসারণের জোর দাবি করা হলেও, সরেজমিনে এর ভিন্ন চিত্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি পরিদর্শনের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন রুট ঘুরে বর্জ্য অপসারণ কাজের বাস্তব অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনে রাজধানীর কয়েকটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্জ্য অপসারণ না করে ফেলে রাখার প্রমাণ মিলেছে। এই দায়িত্বহীনতার কারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে (উপসচিব) অবিলম্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে।" সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়