সুন্দরবনে কোস্টগার্ড স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবন সংলগ্ন জয়মনিরঘোল এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় এক নিখোঁজ যুবকের সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
হামলায় কোস্ট গার্ডের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল থেকে মিরাজ শেখ (৩২) নামের এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে স্বজন ও স্থানীয় গ্রামবাসী জয়মনিরঘোল এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ কোস্ট গার্ডের হারবারিয়া চেকপোস্ট ও স্টেশনে চড়াও হয়। তারা স্টেশনের পন্টুন অফিস, কোস্ট গার্ডের ব্যবহৃত স্পিডবোট এবং অন্যান্য সরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় কোস্ট গার্ড সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়, এতে বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ নিক্ষেপ করেন। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: বকশীগঞ্জ সীমান্তে উদ্ধার বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে
নিখোঁজ মিরাজ শেখের স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, কোস্ট গার্ডের পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বরাবরের মতোই এই ঘটনায় বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে ঘটনার পর কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই হামলার পেছনে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জয়মনিরঘোল এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপনের ফলে দস্যুদের রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই হামলার মাধ্যমে তারা মূলত কোস্ট গার্ডকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে চায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেনি, তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে এলাকায় যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








