নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:০৬, ৩০ মে ২০২৬

জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনে শরিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনে শরিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানবলেছেন, শহীদ জিয়ার রাজনীতি ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষকে সহযোগিতা করা এবং দেশ গঠন করা। সেই আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এবং একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে, তাহলে রাষ্ট্র গঠনের কাজ অনেক সহজ হবে। 

তিনি বলেন, শুধু সরকার নয়, সরকারের পাশাপাশি দলের প্রতিটি নেতাকর্মী যে যেখানেই যে অবস্থায় থাকুন না কেন, সেখান থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে শহীদ রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে।

শনিবার (৩০ মে) মহান এই নেতার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

আজ দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ১৬টি স্পটে তার এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সকালে দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউস্থ রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দেন তারেক রহমান। সেখানে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। 

আরও পড়ুন: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

উপস্থিত নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দল থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শহীদ জিয়া বলতেন ‘কথা কম, কাজ বেশি’ তাই আজ বক্তব্যের চেয়ে কর্মসূচির মাধ্যমেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সুশৃঙ্খলভাবে তাদের সহযোগিতা করাই মূল লক্ষ্য। এই কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর দুপুরে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা এবং ইসিবি চত্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক দুটি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান। ইসিবি চত্বরের অনুষ্ঠানটি মূল সড়কের ওপর আয়োজিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের সাময়িক অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি নিজের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন। 

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, কর্মসূচিটি রাস্তার মধ্যে আয়োজন করায় সাধারণ মানুষের চলাচলে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে, গাড়ি চলাচলের সমস্যা দেখে মানুষের কষ্ট আমি অনুভব করতে পারছি। তাই আজ আর দীর্ঘ কথা বাড়াবো না। ইনশাআল্লাহ, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমরা খুব দ্রুতই আরেকদিন দলীয় নেতাকর্মী ও ভাইদের সাথে বসব। সেদিন বিস্তারিত আলোচনা করে সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশ গঠনে নিয়োজিতদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের প্রিয় দল বিএনপিকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন, তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে যদি আমরা একে অপরকে সাহায্য করি, তবেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। আজকের এই কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়