News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ৩০ মে ২০২৬

রটারডামে মসজিদে ভাঙচুর ও অবমাননা

রটারডামে মসজিদে ভাঙচুর ও অবমাননা

ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরের ঐতিহাসিক মেভলানা মসজিদে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তের বর্বরোচিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করার পাশাপাশি ভবনটির সম্মুখভাগে চরম অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং উদাসীন ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৯ মে) ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন) এক বিবৃতিতে এই হামলার খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

আইএসএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে (২২:৪০ জিএমটি) ছয়জনের একটি অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তের দল রটারডামের ঐতিহ্যবাহী মেভলানা মসজিদে এই পরিকল্পিত তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে মসজিদের সম্মুখভাগের একটি শৈল্পিক মোজাইক দেয়াল ভাঙচুর করে সেটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাঙচুরের পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা মসজিদের দেয়াল লক্ষ্য করে বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারে এবং ভবনের সামনের অংশে প্রস্রাব করে ধর্মীয় উপাসনালয়টির চরম অবমাননা করে। পবিত্র একটি স্থাপনার সামনে এমন অশোভন ও উসকানিমূলক আচরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এই ঘটনার চেয়েও বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা। 

আরও পড়ুন: চুক্তি না হলে ইরানে নতুন সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার ঘটনাটি শুরুর পরপরই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা বারবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। কিন্তু একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসন যথাসময়ে সাড়া দেয়নি এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব করে। ততক্ষণে হামলাকারী দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে ভাঙচুর ও তাণ্ডব শেষ করে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অপরাধীরা চলে যাওয়ার বেশ কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়, যা আইন প্রয়োগকারীদের পেশাদারিত্বকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগের বিষয় হলো, বিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেন। 

আইএসএন তাদের বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পুলিশ কর্মকর্তারা এই ন্যাক্কারজনক ও পরিকল্পিত হামলাটিকে ‘তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো হুমকি’ হিসেবে গণ্যই করেননি। পুলিশের এমন দায়সারা ও উদাসীন মূল্যায়ন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মুসলিম নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভাঙচুরের পাশাপাশি পুলিশের এই রহস্যজনক মন্থর প্রতিক্রিয়া এবং অপরাধকে খাটো করে দেখার মানসিকতা স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

বিবৃতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন) জোর দিয়ে বলেছে, নেদারল্যান্ডসসহ সামগ্রিকভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মসজিদ, মুসলিম সম্প্রদায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা, ভাঙচুর এবং ইসলামবিদ্বেষমূলক (ইসলামোফোবিয়া) অপরাধের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নেদারল্যান্ডসের মাটিতে ইতিপূর্বেও একাধিক ধর্মীয় স্থাপনায় এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক হামলার নজির রয়েছে। এই ধারাবাহিক অপতৎপরতা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অভাবের কারণে সাধারণ মুসল্লিরা এখন দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে নিজেদের দিন দিন আরও বেশি অনিরাপদ, অসহায় ও হুমকির সম্মুখীন মনে করছেন।

সংস্থাটি দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে সব পরিস্থিতিতে ইবাদতকারীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা আতঙ্ক ছাড়া স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই বর্বর হামলার ঘটনার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন) ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অতি দ্রুত তদন্ত করার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়