News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫১, ৩১ মে ২০২৬

জিয়া ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য: মির্জা ফখরুল

জিয়া ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশকে কোনোভাবেই আলাদা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেছেন, একাত্তরের সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধের পথ ধরেই বাংলাদেশ একটি নতুন ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে নিজের অস্তিত্ব লাভ করেছিল। তাই জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ দুটো অবিচ্ছেদ্য সত্তা, যাকে কোনোভাবেই পৃথক করা যায় না। বর্তমান রাজনীতিতে অনেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দিলেও মূলত বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বড় সংস্কারের সূচনা বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ ও আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি ও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব ১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক পটভূমিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের তুলনা করে বলেন, একাত্তরের চরম সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়া যেভাবে দিশেহারা গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং দেশবাসী তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ঠিক একইভাবে পঁচাত্তরের সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর মেজর জেনারেল জিয়া হিসেবে তিনি আবারও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিপর্যস্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন। 

আরও পড়ুন: কঠিন সময়ের সতর্কবার্তা দিলেন তারেক রহমান

দেশের এবং দলের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে এই মানুষটি সবসময় আলোকবর্তিকার মতো সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে এই জাতিকে একটি সম্পূর্ণ নতুন পরিচয় ও আত্মপরিচয় দিয়েছিলেন। ভাষা এক হলেও ভূখণ্ড ও জাতিগতভাবে যে আমরা বিশ্বমঞ্চে আলাদা, সেই অনন্য পরিচিতি তিনিই নিশ্চিত করেছিলেন। 

বর্তমান সময়ে কয়েকটি রাজনৈতিক শক্তি খুব জোর দিয়ে সংস্কারের কথা বলে বিএনপি সংস্কারে বিশ্বাসী নয় বলে যে প্রচার চালাচ্ছে, তার জবাবে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে সংস্কারের মূল ভিত্তি তো বিএনপি আর শহীদ জিয়ার হাত ধরেই রচিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহীদ জিয়া এ দেশে নানামুখী টেকসই ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে মসৃণ করেছে।

কৃষি, অর্থনীতি ও দেশের আধুনিকায়নে শহীদ জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কৃষিতে তাঁর যুগান্তকারী খাল খনন কর্মসূচির কথা আজ সবার জানা, তবে গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য। তৎকালীন সময়ে উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ দেশে এনে তিনি কৃষি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন, যার সুফল হিসেবে ১৯৭৪ সালের দুঃসহ দুর্ভিক্ষ কাটিয়ে ১৯৮০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হয় এবং বিদেশে খাদ্য রপ্তানি শুরু করে। শুধু কৃষিই নয়, বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত গার্মেন্টস শিল্প এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মতো যুগান্তকারী ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোর সূচনাই হয়েছিল শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে, যা আজ দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, শহীদ জিয়ার সততা ও দেশপ্রেম ছিল কিংবদন্তিতুল্য এবং তাঁর মধ্যে এমন এক অনন্য রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী ছিল, যা তাঁর চরম রাজনৈতিক শত্রুরাও সবসময় স্বীকার করতে বাধ্য হন। ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ের নেতা হতে পেরেছিলেন। তাঁর শাহাদাতবরণের পর আয়োজিত ঐতিহাসিক জানাজায় লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ও অভূতপূর্ব অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ শহীদ জিয়া এবং দেশকে এক করে দেখেছিল। জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত আদর্শ, সততা এবং দেশের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে ও জনগণের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়