News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২০, ৩১ মে ২০২৬

অ্যালবিনো মহিষের চক্করে কপাল পুড়ল চিড়িয়াখানার কিউরেটরের

অ্যালবিনো মহিষের চক্করে কপাল পুড়ল চিড়িয়াখানার কিউরেটরের

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সদ্য স্থান পাওয়া আলোচিত বিরল প্রজাতির অ্যালবিনো মহিষের পরিচিতি ফলকে নাম ও বানানের চরম বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা, ট্রল ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের আপত্তির মুখে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নতুন কিউরেটর নিয়োগসহ একাধিক প্রশাসনিক রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয় যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিসিএস (পশুপালন) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও জাতীয় চিড়িয়াখানার বিদায়ী কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

একই বিধিমালার ১২(১) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তবে বিধি অনুযায়ী এই সময়ে তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। 

প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো একক কারণের কথা পরিষ্কার না করা হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামানুসারে পরিচিতি পাওয়া ওই মহিষের নামফলকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এর পরিবর্তে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা এবং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের নাম বহাল রাখার পুরো প্রক্রিয়াটিতে চরম প্রশাসনিক গাফিলতি ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করেছে উচ্চপর্যায়। অন্যদিকে আরেকটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, এই বরখাস্তের পেছনে আরও কিছু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কারণও জড়িত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা

একই দিনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ-৪ শাখা থেকে জারি করা পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বড় ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক রদবদল আনা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করে ঢাকাস্থ 'লাইভস্টক, ভেটেরিনারি অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট (এলভিডিডি) রিভাইভড' প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 
একই আদেশে ওই প্রকল্পে কর্মরত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সমমান) ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আকস্মিক এই রদবদলের পর নতুন কিউরেটর দায়িত্ব নিয়ে চিড়িয়াখানার সামগ্রিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল গোলাপি-সাদা রঙের অ্যালবিনো মহিষটি। মাথার সামনের অংশের সোনালি চুল এবং অনন্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে রসিকতা করে এর নামকরণ করেছিলেন। কোরবানির পশুর হাটে তোলার পর এই ব্যতিক্রমী প্রাণীটির ছবি ও ভিডিও দেশী-বিদেশী মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মহিষটিকে একনজর দেখতে হাটে সাধারণ ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় তৈরি হয়, যা একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বিরল এই প্রাণীটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচিয়ে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ক্রেতাকে যথাযথ অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মহিষটিকে নিরাপদে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়।

জাতীয় চিড়িয়াখানায় জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করার পরপরই মহিষটিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। খাঁচার সামনে টানানো সরকারি তথ্যফলকে প্রাণীটির নাম ভুল বানানে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীল একটি নামকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী বোর্ডে ভুলভাবে লেখা এবং তা দীর্ঘদিন বহাল রাখা নিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পর মুহূর্তেই ট্রল ও হাস্যরসের খোরাকে পরিণত হয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসলে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়। 

বিতর্কের মুখে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেই বিতর্কিত নামফলকটি অপসারণ করে এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুন বোর্ডে প্রাণীটির প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় সংশোধন করে সাধারণ 'সাদা মহিষ' হিসেবে প্রদর্শন শুরু করেছে। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনে এই ধরণের উদাসীনতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না—প্রশাসনিক এই কঠোর অ্যাকশনের মাধ্যমে সরকার সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়