দলের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারে ছাড় নেই: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে যেকোনো ধরনের ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিপন্থী বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ লঙ্ঘন করে সীমান্তে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতার পেছনে কোনো গভীর ‘গোপন এজেন্ডা’ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের জনমনে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান জনবান্ধব সরকার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো অনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন ঈদুল আজহার সার্বিক প্রস্তুতি এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের গৃহীতো পদক্ষেপগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যত্রতত্র এবং প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে পশুর হাট বসানোর কারণে অতীতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। তবে এবার জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে যত্রতত্র বসা পশুর হাটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নজরুল আজও জাতীয় ও সামাজিক জীবনে প্রাসঙ্গিক: রিজভী
এই নির্দেশনার শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পশুর হাট কিংবা চামড়া ব্যবসা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকার যেহেতু সরাসরি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, তাই যেকোনো ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও কথা বলেন এই উপদেষ্টা। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে বা হাসপাতালে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা কেন ঘটল, সে বিষয়ে সরকার সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখছে। ঘটনার নেপথ্যে কোনো অবহেলা বা কারিগরি ত্রুটি থাকলে তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জানান, সরকারের নিবিড় নজরদারি ও সহযোগিতার কারণে এবার ঈদের আগে প্রায় ৯৫ শতাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সুষ্ঠুভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের উৎসবের আনন্দ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই তৎপর ছিল। একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করে সরকারের এই ইতিবাচক ও সফল কাজকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করতে এবং একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে সরকারের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








