নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ৩ জুন ২০২৬

দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান উন্নয়ন, অগ্রগতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নস্যাৎ করতে একটি বিশেষ মহল নানামুখী অপতৎপরতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখে দিতে এবং নতুন করে দেশ গড়ার প্রত্যয় অক্ষুণ্ণ রাখতে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে চরম সতর্ক ও সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ‘রুহিয়া’ উপজেলা বাস্তবায়ন ও এর অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবগঠিত এই উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে এলজিআরডিমন্ত্রীকে এই রাজকীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে নতুন করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহাপরিকল্পনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে। জনগণের প্রতি আমার বিশেষ আকুল আবেদন আপনারা কোনোভাবেই বিভ্রান্ত হবেন না এবং এই মহলটি যেন কোনোভাবেই তাদের অশুভ উদ্দেশ্যে সফল হতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে শতভাগ অঙ্গীকারাবদ্ধ।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক মেগা প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কেবল ফাঁকা বুলি বা আশ্বাসের সরকার নয়, এটি মূলত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সরকার। নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পূরণ করা হচ্ছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তায় কৃষি কার্ড বিতরণ এবং দেশের কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটাতে দেশব্যাপী ঐতিহ্যবাহী খাল খনন কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। 

আরও পড়ুন: জিয়া ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য: মির্জা ফখরুল

এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্জনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও সুনিপুণ কূটনৈতিক নেতৃত্বে সাইপ্রাসকে পরাজিত করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল ও ঐতিহাসিক সম্মান। আগামী এক বছর বাংলাদেশের মতো একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক সংস্থাকে নেতৃত্ব দেবে, যা প্রতিটি নাগরিকের জন্য গর্বের।

নিজের জন্মভূমি ও নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও জেলার সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা ঘোষণা করতে গিয়ে এলজিআরডিমন্ত্রী রুহিয়া ও ভূল্লীবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্থবির হয়ে থাকা দীর্ঘদিনের গণদাবির প্রেক্ষিতেই আজ রুহিয়া ও ভূল্লীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলো। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের বহুল প্রত্যাশিত মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই দুই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। শুধু তাই নয়, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক করিডোর সচল করতে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি আগামী দুই বছরের মধ্যে পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে বিমান মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে বলে তিনি সুসংবাদ দেন। এর পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রতিটি কাঁচা রাস্তা ধাপে ধাপে পাকা করা এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সংস্কারে ব্যাপক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যের শেষাংশে দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার যুবসমাজ ও তরুণদের বিপথগামিতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। 

তিনি বলেন, বর্তমান যুবসমাজের একটা বড় অংশ মাদকের অন্ধকার ছায়াতলে নিমজ্জিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মাদক কেবল একটি ব্যক্তি বা পরিবারকে নয়, বরং গোটা জাতিকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় যুব ও তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তরুণদের এই মরণব্যাধি থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ ধারার মনন গঠনে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। 

একই সাথে রুহিয়া উপজেলার ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির স্বার্থে তরুণদের মধ্য থেকে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন এলজিআরডিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার শুরুতে তিনি রুহিয়া অঞ্চলের উপজেলা বাস্তবায়নের আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকা এবং বর্তমানে পরপারে পাড়ি জমানো প্রয়াত প্রবীণ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন‌, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ এবং প্রবীণ বিএনপি নেতা মাহেবুল্লাহ আবু নুরসহ জেলা, উপজেলা ও রুহিয়া অঞ্চলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দ। এর আগে মন্ত্রী রুহিয়া উপজেলার নবনির্মিত অস্থায়ী কার্যালয়ের ফলক উন্মোচন করে এর দাপ্তরিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়