News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৩, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

সুশাসন ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

সুশাসন ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

ছবি: সংগৃহীত

সুশাসন, কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের জন্য দেশের মানুষকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান। 

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিক প্রচারের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৫–১৬ বছরে দেশের মানুষ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং হয়েছে কেবল ‘ডামি’ নির্বাচন। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচিত না হলে জনগণের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো বোঝা সম্ভব নয়। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্তরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন।

জনসভার শুরুতেই প্রথাগত রাজনৈতিক ভাষণের বাইরে গিয়ে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি মঞ্চে কয়েকজন নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ডেকে নেন এবং ভাষানটেক এলাকার রাস্তা, অবকাঠামো, বস্তি, পুনর্বাসন ও প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিষয়ে তাদের মতামত শোনেন। 

এলাকাবাসী বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন, তিনি এই এলাকায় বড় হয়েছেন এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যাগুলো সরাসরি জানতেই এই আয়োজন।

আরও পড়ুন: ‘কেবল ধানের শীষের মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব’

তারেক রহমান আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ভাষানটেকের বস্তিবাসী ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চার কোটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পেশাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিকল্পিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তারেক রহমান বলেন, অন্যান্য পেশার মতো খেলাধুলাকেও বাংলাদেশে একটি পেশাদার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য কাঠামোগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, দেশের মানুষ যতবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে এবং মানুষের ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। সে কারণেই তিনি ঢাকা-১৭ আসনসহ সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

জনসভা বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর থেকেই ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ উপচে পড়ে আশপাশের অলিগলিতে ভিড় ছড়িয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আনুষ্ঠানিক প্রচারের প্রথম দিনে বিএনপির প্রচার কার্যক্রম শুরু হয় সিলেট থেকে। সেখানে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে ঢাকা-১৭ আসনে তাকে এবং সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়