News Bangladesh

স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচন অতো সহজ হবে না, ষড়যন্ত্র থেমে নেই: তারেক রহমান

নির্বাচন অতো সহজ হবে না, ষড়যন্ত্র থেমে নেই: তারেক রহমান

ফাইল ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “গত কয়েক দিনের ঘটনা, গতকালকের ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর উপরে গুলিবর্ষণের ঘটনা, এই সবকিছু নিয়েই কিন্তু প্রমাণিত হচ্ছে যে, যা আমি বলছিলাম তা কিন্তু সত্য হচ্ছে আস্তে আস্তে। যে কথাটা আমি আগে বলেছিলাম যে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না, ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই।”

শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির এক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে নিয়ে না আনি, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই, এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে,” বলেন তারেক রহমান।

প্রত্যেকবার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বিএনপি উদ্ধার করেছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, “প্রত্যেকবার এই দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়েছে, প্রত্যেকবার আপনারা, কখনো শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে, কখনো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, আস্তে আস্তে সেই খাদের কিনারা থেকে দেশকে আবার বের করে নিয়ে এসেছেন।”

তিনি বলেন, “বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, এই ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থেমে থাকবে না। আরও খারাপও হতে পারে। আমাদের ভয় পেলে চলবে না, আমাদেরকে আতঙ্কগ্রস্ত হলে চলবে না। আমাদেরকে মানুষদের সাহস দিতে হবে, আমাদের নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দেশের সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হবো, আমরা যত সামনে এগিয়ে আসবো, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে…এই পরিস্থিতি যত আমরা তৈরি করবো, ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে।”

‘বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড দেশকে মেধাশূন্য করার গভীর চক্রান্ত’

ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র বিএনপির আছে বলে দাবি করেন তারেক রহমান।

চট্টগ্রামে ও ঢাকায় দুই প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তারেক বলেন, “চট্টগ্রামে ঘটনা ঘটেছে, গতকাল একটা ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা দিয়ে কেউ কোনো ফায়দা লুটার অবশ্যই প্রচেষ্টা হচ্ছে…তাই মনে হয় না আপনাদের?”

ফার্ম গেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, তথ্য প্রযুক্তি, বায়ু ও পানি দুষণ রোধ প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির প্রণীত পরিকল্পনাগুলো এবং সেসব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “এখন আমাদের সময় এসেছে, আমি কি পেলাম… এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে, আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। আজ সময় এসেছে, নিজে কী পেলাম, এটা ভুলে যাওয়ার।”

তিনি বলেন, “আজকে আপনি যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, কি দিতে পারলাম, কি দিচ্ছি দেশ এবং জাতিকে…তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতি-পুতি, এরা ভালো থাকবে। আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করা।”

ধারাবাহিক কর্মশালার সপ্তম দিনের এই আয়োজনে বিএনপির মাঠ পর্যায়ে নেতাদের উদ্দেশে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, “এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। দয়া করে আসুন, এই যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে, এই যুদ্ধে জেতার সবচেয়ে বড় সহযোগী কে? বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এই যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন, তিনটি বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাই। ইনশাল্লাহ আমি পাবো। দেখা হবে যুদ্ধের মাঠে, দেখা হবে সংগ্রামের মাঠে, দেখা হবে আপনাদের সাথে ভোটের ময়দানে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আর সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে চলন্ত রিকশায় গুলি করা হয়। তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সংকটাপন্ন অবস্থায় হাদি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তার আগে ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ জনসংযোগ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে একজন নিহত হন। এরশাদ উল্লাহসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়