News Bangladesh

স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:০৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য: মির্জা ফখরুল

জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশপ্রেম, সাহস, সততা, সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের প্রতীক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য। সমাজে মহৎ চরিত্র গঠনে শহীদ জিয়া এক অনুকরণীয় আদর্শ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।”

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য জিয়াউর রহমান বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন দেশের প্রতিটি ক্রান্তিকাল উত্তরণে এক অনন্য দিশারি। রণনায়ক হিসেবে তিনি দেশবাসীর কাছে ছিলেন সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর টানা নয় মাস তিনি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে যখন বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করা হয়েছিল এবং দেশ দুর্ভিক্ষসহ নানা সংকটে নিমজ্জিত ছিল, তখন ৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদনমুখী রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে শহীদ জিয়া কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা কর্মসূচি ও শিল্প উৎপাদনে গুরুত্ব দেন। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয়ে ১ হাজার ৪০০ খাল খনন ও পুনঃখনন করেন। গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ে ৪০ লাখ মানুষকে সাক্ষরতা দান করা হয়। পাশাপাশি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে গ্রামীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়া পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থা চালু করেন, যার ফলে তার শাসনামলে ২৭ হাজার ৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ পায় এবং গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য হয়। তিনি যেমন ছিলেন গণতান্ত্রিক, তেমনি ছিলেন আপসহীন দেশপ্রেমিক। আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ গঠনে উদ্যোগ নেন।

আরও পড়ুন: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনেই আমাদের জাতিসত্তার প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। এই দর্শন আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অনন্য প্রেরণা।”

বিএনপি মহাসচিব শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, মানবিক সাম্য এবং মৌলিক ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়