ঈদযাত্রার শুরুতেই সড়কে মহা বিপর্যয়: সারা দেশে নিহত ২৬
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ঝরে গেল ২৬টি তাজা প্রাণ।
সোমবার (২৫ মে) ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, বগুড়া, মুন্সীগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে পৃথক পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়টি ঘটেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে; যেখানে একটি রডবোঝাই ট্রাক উল্টে গিয়ে ১৭ জন শ্রমজীবী যাত্রী নিহত হয়েছেন। উৎসবের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এই আকস্মিক মৃত্যুতে সারা দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৭ শ্রমিকের করুণ মৃত্যু
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু সংযোগ সড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় ভোররাত আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও ফেনী অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক অবৈধভাবে যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটিতে থাকা যাত্রীরা সবাই নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রাকটি মহাসড়কের পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। ভারী রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ২ জনসহ মোট ১৭ জন প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন, যাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আতোয়ার রহমান জানান, নিহতরা মূলত ফেনী ও নোয়াখালী অঞ্চলে ফেরি করে চুল, ভাঙারি ও প্লাস্টিক মালামাল বিক্রি করতেন। বাসের অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে তারা কম খরচে রডবোঝাই ওই ট্রাকে উঠেছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশো ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম এখন স্তব্ধ।
আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫
বগুড়ায় অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় বাবা-মেয়ের প্রাণহানি
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। রংপুরে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে কর্মরত আনিছুর রহমান (৩৫) তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বনানী এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী যানবাহন তাদের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই আনিছুর রহমান ও তার ৪ বছরের শিশুকন্যা পুষ্প মারা যায়। দুর্ঘটনায় আনিছুরের স্ত্রী আয়েশা বেগম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে আরও চার প্রাণহানি
ভোররাতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মাইক্রোবাসের চালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং তিনটি যানের অন্তত ৫ জন যাত্রী আহত হন। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চালকের ভুলেই টাঙ্গাইলের দুর্ঘটনা: সেতুমন্ত্রী
এদিকে দুপুরে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম টাঙ্গাইলের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সম্পূর্ণ ড্রাইভারের ভুলের কারণে টাঙ্গাইলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এখানে রাস্তা ম্যানেজমেন্টের কোনো ত্রুটি ছিল না।
তিনি আরও যোগ করেন, ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল ক্রমান্বয়ে বন্ধ করতে এবং অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ট্রাকে যাতায়াত নিরুৎসাহিত করতে প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি নিহতদের পূর্ণাঙ্গ নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শনাক্ত হওয়া মাত্রই তথ্য আপডেট করা হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








