নতুন মন্ত্রিসভার শপথে ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন দিগন্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর এদিন বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ঢাকা আসছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর এ সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে মূল্যায়ন করছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মালদ্বীপ ছাড়াও আরও ১২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন। অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ করাবেন এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদেরও শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
আরও পড়ুন: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার বিদায়ী ভাষণ
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না। ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রো ঢাকায় অংশ নেবেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা প্রকাশ করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যাপক উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রদর্শনের প্রতিফলন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দুই দেশের জন্য যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করেছে। ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। দলটির জোটসঙ্গীরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের প্রতি শক্তিশালী আস্থা প্রদর্শনের দিকেও ইঙ্গিত করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








