শেষ সংবাদ সম্মেলনের ইঙ্গিত দিলেন শফিকুল আলম
ফাইল ছবি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন পার করল অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক এবং সচিবদের সঙ্গে পৃথক আলোচনার মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এটিকে নিজের ‘শেষ সংবাদ সম্মেলন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত দেড় বছরের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বিগত ১৮ মাসে সরকার প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং নিজেদের অবস্থান দ্রুততম সময়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজকে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পেজটি সব মিলিয়ে অন্তত ২০ কোটি বার দেখা হয়েছে।
প্রেস উইংয়ের দাবি, সরকারের এমন কোনো তথ্য নেই যা এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়নি। এছাড়া প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম আরও জানান, মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রেস কনফারেন্সে যত প্রশ্ন আপনাদের ছিল, সবই আমরা নিয়েছি।
প্রেস উইংয়ের সদস্য আজাদ মজুমদার বলেন, আমরা সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি এবং তা পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে আশা করছি, টেবিলের ওপারে আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে পারব।
আরও পড়ুন: ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রেই থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি: প্রেস সচিব
ফয়েজ আহমদ যোগ করেন, আমি সবসময়ই সাংবাদিকদের সঙ্গে নিকটবর্তীভাবে কাজ করেছি। পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছি। নানা কারণে আমরা অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমাদের কোনো আচরণে যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা দুঃখিত।
উল্লেখ্য, সোমবারই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিবদের সঙ্গে পৃথক দুটি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এ বৈঠক নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শেষ আনুষ্ঠানিক সভা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠকে ৭৫ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন সচিবও রয়েছেন।
বৈঠকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা সরকারের সচিব ও উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শফিকুল আলম গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, যদি দেখা যায় তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন, তবে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। আমি মনে করি না এটি ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আজকের বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হতে পারে। নির্বাচনের আগে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি না হলে উপদেষ্টা পরিষদের আর কোনো বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








